রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) চলতি অর্থ বছরের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জনকল্যাণবান্ধব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল।

তিনি বলেন, ‘সিটির ৩৩টি ওয়ার্ড ও ছয়টি থানার প্রায় ১২ লক্ষ জনগণের জীবনমানের বাজেট এত ছোট হতে পারে না। মেয়র ঘোষিত ৮শ ৮৯ কোটি টাকার বাজেটের আয় ও ব্যয় খাত অসঙ্গতিপূর্ণ, এটা চরম ব্যর্থতা। এ ধরণের বাজেটে জনকল্যাণ আসবে না, বরং ভোগান্তি বাড়াবে।’

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর এফপিএবি মিলনায়তনে রংপুর সিটি করপোরেশনের ঘোষিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে মহানগর উন্নয়ন ফোরাম সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে ফোরামের প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় বাবু তুষার কান্তি মন্ডল এ অভিযোগ করেন।

এদিকে ওই বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম বাজেট হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি ঘোষিত তৃতীয় বাজেট হয়েছে মাত্র ৮শ ৮৯কোটি টাকার । এই বাজেট মেয়রের দুর্বলতাকেই জানান দিয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতিতে পর্যুদস্ত রংপুর সিটি করপোরেশন কখনোই জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৫ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করে। সেখানে রংপুর সিটির মেয়র ১০০০ কোটি টাকাও বাজেট দিতে পারে না। এটা চরম ব্যর্থতা। বর্তমান মেয়রের আমলে বাজেট জনকল্যাণে আসবে না বরং ভোগান্তি বাড়াবে।

এসময় ভোগান্তির বাজেট থেকে মুক্তি ও দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশনের জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান মহানগর উন্নয়ন ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা বাবু তুষার কান্তি মন্ডল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ২৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রংপুর মহানগর উন্নয়নের সভাপতি রফিকুল আলম, ২৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কাওসার মামুন, সহ সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, নাজনীন রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এম.কে হাসান লাট্টু, প্রচার সম্পাদক সজিত কুমার সরকার, দপ্তর সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ সুজন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য জাইকাসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা হতে ৮০১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে রাস্তা উন্নয়ন, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, যানজট নিরসনকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

ঘোষিত ৮শ ৮৯ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৫৫৮ টাকার বাজেটে প্রস্তাবিত রাজস্ব আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার ৫৪০ টাকা। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮০১ কোটি ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৮ টাকা। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব তহবিল হতে সাধারণ সংস্থাপন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা, শিক্ষা খাতে ৭০ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা, পানি সরবরাহ খাতে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা। এছাড়া, অন্যান্য খাতে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, রাজস্ব উদ্বৃত্ত উন্নয়ন হিসাবে স্থানান্তর ৫ কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ১০ কোটি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য