দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে গুদামঘরে অতিরিক্ত ধান চাল মজুত রাখার অভিযোগে মিলারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত কার‌্যক্রম চলমান রয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে চারটার সময় সদর উপজেলার চেহেলগাজি ইউনিয়নের বড়ইল এলাকায় দুটি অটোরাইসমিল মালিককে ৩লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সহকারি ভূমি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান এই ভ্রাম্যমান আদালত কার‌্যক্রম পরিচালনা করেন।

কয়েকদিন পূর্বে বাজারে চালের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বুধবার সরকার চালের মুল্য নির্ধারন করে দেয়। পরেরদিন থেকে মিলমালিকদের গুদাম ঘরে মজুতের পরিমান দেখতে অভিযান শুরু করে জেলা খাদ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। সেদিনই দুটি মিল মালিককে অতিরিক্ত ধান মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত ১লাখ টাকা জরিমানা করেন।

জরিমানাকৃত মিল দুটি হলো সদর উপজেলার বড়ইল এলাকার বয়রা অটোরাইস মিল ও একই এলাকার হানুফা অটো রাইসমিল।

বয়রা অটো রাইসমিলের গুদামঘরে ৮শত মেট্রিক টন ধান মজুত পেয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। তবে মিল মালিক জানান এই ধান তার একার নয়। তার গুদাম ঘরে একজন ব্যবসায়ীও ধান কিনে মজুত করে রেখেছেন। ভ্রাম্যমান আদালত মিলের স্বত্ত্বাধিকারী অভিজিত দে কে ৫০হাজার টাকা এবং তাঁর গুদাম ঘরে রাখা ধানের মালিক ত্রিলোচন কুমারকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

হানুফা অটোরাইস মিলে ১হাজার ৭৮০মেট্রিক টন আতপ চাল মজুত পেয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। প্রায় ৫-৬মাসেরও অধিক সময় ধরে চাল মজুত করে রাখার অভিযোগে মিল মালিক মাহমুদুজ্জামানকে ২লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মিল মালিক বলছেন বর্তমানে আতপ চলের চাহিদা কম থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। পাইকাররা যে দাম বলছেন তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান বলেন, বিধি অনুযায়ী কোন মিল মালিকের ১মাসের অধিক সময় ধান চাল মজুত রাখবার বিধান নেই। সেখানে সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে চালের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিল মালিক অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ধান-চাল মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। আজকের অভিযানে দুটি মিল মালিককে ৩লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসসূ্ত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৩২ হাজার ৭২ মেট্রিক টন। সেখানে অর্জন হয়েছে ৯হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন। অন্যদিকে সিদ্ধ চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯১হাজার ১২৩ মেট্রিক টন। ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ৬৬হাজার ৬৮৩মেট্রিক টন। আর আতপ ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১২হাজার ৮৭০মেট্রিক টন। অর্জন হয়েছে ৯ হাজার ১২২ মেট্রিক টন।

জরিমানাকৃত বয়রা অটো রাইস মিলের সাথে চুক্তিকৃত সিদ্ধ চালের পরিমান ৩৮৭ দশমিক ৮১০মেট্রিক টন। যার বিপরীতে তিনি সরকারকে দিয়েছেন মাত্র ২২টন। যা বরাদ্দের মাত্র ৫শতাংশ। তবে হানুফা অটোরাইসমিলের স্বত্ত্বাধিকারী খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ৯৩টন আতপ চাল সরবরাহ করেছে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান বলেন, যেসব মিল মালিক সরকারের আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত মজুত করে চালের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য