কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার পানি র্দীঘদিন জমে থাকায় পঁচে গেলো কৃষকের উঠতি রোপা আমনের ফলন। এবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চতুর্থ দফা বন্যায় এক হাজার ছয়শ হেক্টর উঠতি আমন খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সরেজমিনে, বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্বধনিরাম ও পশ্চিমধনিরা এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়নের প্রাণকৃষ্ণ গ্রামের কৃষকদের বহু জমির আমন ধান পঁচে গেছে। দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা।

পূর্বধনিরাম গ্রামের ধান চাষী আব্দুল সোবান ও নুর ইসলাম জানান, ‘বাহে কি কই দুঃখের কতা, এক বার না দুই থেকে তিন বার বানে ধান খাইল। ক্ষেতের সব ধান শেষ। কি খাঁমো বাহে! গরুগুলা বা কি খাইবে!’ তারা জানান, ধারদেনা করে তিন থেকে চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপন করেছেন। বন্যার পানিতে সব কিছুই নষ্ট হয়ে গেল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় আমন ধান রোপন করা (অর্জিত) হয়েছে ১১ হাজার ৭২০ হেক্টর। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে এ উপজেলায় এক হাজার ছয়শ হেক্টর উঠতি আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য