নিস শহরের কাছে ফ্রান্স ও ইতালির সীমান্ত অঞ্চলে তীব্র ঝড়, ভারি বৃষ্টিপাত ও হঠাৎ বন্যার পর এ পর্যন্ত সাতটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা।

রোববার ইতালির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় পাঁচটি মৃতদেহ ও ফ্রান্সে দুটি মৃতদেহ পাওয়া যায়।

ইতালিতে যে পাঁচটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে চারটি ভেনটিমিলিয়া ও সান্তো স্তেফানো আল মারে শহরের মধ্যবর্তী সাগর তীরে ভেসে এসেছে। এই লাশগুলোর কয়েকটি ফ্রান্সের উপকূল থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতালির তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল ফ্রান্সের সীমান্ত অঞ্চল থেকে একজন মেষপালকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ফ্রান্সে পাওয়া অপর মৃতদেহটি একটি গাড়ির ভিতরে পাওয়া গেছে। হড়কা বানের তোড়ে সা-মাখতা-ভিজুবি গ্রাম থেকে ওই আরোহীসহ গাড়িটি ভেসে গিয়েছিল।

এদের নিয়ে শুক্রবারের ওই ঝড় ও ঝড় পরবর্তী প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা নয় জনে দাঁড়াল।

ফ্রান্সের দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, আরও ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন, এদের মধ্যে আট জন ঝড়ে নিখোঁজ হয়েছেন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। ইতালিতে অনেকগুলো সড়ক সেতু ধসে পড়েছে, কয়েকটি শহরের রাস্তা জঞ্জাল ও কাদায় ঢেকে গেছে; বহু গাড়ি উল্টে পড়ে আছে।

পিদমন্ত অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ড সীমান্তের নিকটবর্তী সাম্বুগেত্তো শহরে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৬৩০ মিলিমিটার (২৪ দশমিক ৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি এই এলাকার বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও বেশি।

১০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত আর দেখা যায়নি বলে শনিবার জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জঁ ক্যাসতেক্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য