দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আওয়ামীলীগ নেতা মইনুল মাস্টারের আবার ২ লক্ষ টাকার দাবী। টাকা না দেয়ায় মারপিট করায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

ঘোড়াঘাট থানায় মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডুগডুগী বাজারের উপরে থাকা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও সংলগ্ন মসজিদের বারান্দার নির্মাণ কাজ চলাকালীন ডুগডুগীহাটে ইজারাদার ২নং পালশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুল মাস্টার ও আওয়ামীলীগ নেতা ফয়সাল হোসেনের নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নিকট ২ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর নামের দুইজন আওয়ামীলীগ নেতা এসে মসজিদের বারান্দার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা ও মসজিদের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন এসে পুনরায় কাজ চালু করে দেন।

একই দিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ম্যানেজিং কমিটির লোকজন মাদ্রাসার অফিস কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় সংঘদ্ধ দলটি মইনুল মাস্টারের নেতৃত্বে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে আসে। তারা দাবীকৃত ২ লক্ষ টাকা না দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করায় অকথ্য ভাষা গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার হুমকি লোকজনের ওপর চড়াও হওয়ায় এবং শার্টের কলার, পাঞ্জাবি ধরে টানা হেঁচরা সহ মারপিট করে অপমান করে।

এ সময় তারা বার বার চাঁদার টাকা না দিয়ে কেন কাজ শুরু করা হলো তার কৈফিয়ত চাওয়া হয়। তাদের চিৎকারে বাজারের লোকজন এগিয়ে আসলে সংঘবদ্ধ চক্রটি সেখান থেকে নানা ভয়-ভীতি দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামীলীগ নেতা পালশা ইউনিয়ন সভাপতি মইনুল মাস্টারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চাঁদাবাজি, মাদকপাচার (কোকেন), মারামারি ও পুলিশ এসোল্ট সহ ৯ টি মামলা তদন্তধীন ও বিচারাধীন রয়েছে। গত ১ অক্টোবর সর্বশেষ ঘোড়াঘাট থানায় চাঁদাবাজির আরেকটি মামলা রুজু হয়। মামলা নং-১, তাং-০১/১০/২০২০। থানা সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র ২০২০ সালেই মইনুল মাস্টারের বিরুদ্ধে ৫ টি মামলা রয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধেও থানা মামলা রয়েছে।

ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দীন এ চাঁদাবাজির মামলার স্বত্যতা স্বীকার করে জানান, এ মামলায় দেওগ্রাম পশ্চিম পাড়ার শামসুল হকের পুত্র ইরফানুল হক জুয়েল (৩৫) কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জোড় চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য