কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় সাড়ে নয়শ হেক্টর আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। এখনও পানির নিচে মাসকলাইসহ শাকসবজির ক্ষেত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন হাজার পরিবার। দিশেহারা কৃষক।

শনিবার সরেজমিন, রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের জন্দিরকান্দা, চাক্তাবাড়ি, পদ্মারচর, বাঘমারা, কলেজপাড়া, খনজনমারা, বাইসপাড়া, বাগুয়ারচর, জিগ্নিকান্দি, বাইটকামারী, খাঁপাড়া, বাঞ্ছারচরসহ কয়েকটি গ্রামে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পশু খাদ্যের জন্য হাহাকার করছেন বন্যা কবলিত পানিবন্দি কৃষক ও খামারিরা। ২৫ টাকা কেজি দরে খড় কিনে গরু ও মহিষকে খাওয়ানো হচ্ছে। অভাবের তাড়নায় কম দামে বিক্রি করছেন গৃহপালিত পশু।

বাইটকামারী গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, এর আগে খনজনমারা স্লুইচগেট বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি দামে চারা কিনে ক্ষেতে রোপন করি। আবারও বন্যা আমরা ক্ষতির মুখে।

বন্দবেড় গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি প্রায় চার বিঘা জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছিলাম। শহররক্ষা বাঁধ ভাঙা থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সহজেই প্রবেশ করে ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে। জমিতে দুইবার রোপা আমনের চারা রোপন করেছি। দুইবারই নষ্ট হয়ে গেলো।

বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। তাছাড়াও উপজেলা শহর রক্ষা ও খনজনমারা স্লুইচগেট বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামত করা দরকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য