কোভিড-১৯ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে রেমডিসিভির দিতে শুরু করেছেন।

মৃদু উপসর্গ দেখা দেওয়ায় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে ট্রাম্পকে মেরিল্যান্ডের ‘ওলটার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে’ ভর্তি করা হয়।

ওইদিন সন্ধ্যায় এক লিখিত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক শন কনলি জানান, ‘‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি প্রেসিডেন্ট ভালো আছেন।

‘‘তাকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আমরা রেমডিসিভির থেরাপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরইমধ্যে প্রেসিডেন্টকে ওষুধের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। তিনি খুব শান্তভাবে বিশ্রাম নিচ্ছেন।”

এর আগ দেওয়া এক বিবৃতিতে ডা. কনলি বলেছিলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হোয়াইট হাউজে থাকতে ট্রাম্পকে রেজেনেরন ফর্মাসিটিক্যালের পরিক্লোনল অ্যান্ডিবডি ককটেল (REGN-Cov2) দেওয়া হয়।

ওই ওষুধটি শরীরে ভাইরাসের বিস্তার হ্রাস করে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করে।

এছাড়া সুস্থ রাখতে ট্রাম্পকে জিংক, ভিটামিন ডি, ফেমটিডিন, মেলাটনিন এবং অ্যাসপিরিন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কনলি।

‘‘শুক্রবার বিকাল থেকে তিনি কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করলেও ‍মানসিকভাবে চাঙ্গা আছেন।”

বয়স এবং ওজনের কারণে ট্রাম্প রোগ মারাত্মক আকার ধারণের ঝুঁকিতে আছেন। ৭৪ বছর বয়সের ট্রাম্পের বডি ম্যাস ইনডেক্স (বিএমআই) ৩০ এর ওপরে, যাকে বলা যায় ওজনাধিক্য বা স্থুলতা।

ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার বয়স ৫০ বছর। তার শরীরেও মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানান ডা. কনলি। বলেন, ‘‘ফার্স্ট লেডির হাল্কা কাশি এবং মাথাব্যাথা হচ্ছে।”

ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতির একমাত্র ছেলে ব্যারন তাদের সঙ্গেই হোয়াইট হাউজে থাকে। ব্যারনের পরীক্ষার ফল ‘নেগিটিভ’ এসেছে।

একাধিক গবেষণায় রেমডিসিভির ব্যবহারে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের উন্নতি হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় রেমডিসিভির ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

রেমডিসিভির সহ আরো কয়েক ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হলেও এখন পর্যন্ত এ রোগের নিশ্চিত কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কার হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য