দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে অটোরাইস মিলের ছাটাই ক্ষমতার বেশি পরিমাণ ধান রাখায় দুটি অটোরাইস মিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মিল দুটি হলো, শহরের পুলহাট খোয়ারের মোড় এলাকার হৃদয় অটোমেটিক রাইস মিল ও গোপালগঞ্জ এলাকার ব্লু বেল অটোমেটিক রাইস মিল।

বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৫ টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মাগফুরুল হাসান আব্বাসী র‌্যাবের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে হৃদয় অটোমেটিক রাইস মিলে ৬৫০ টন ধান মজুদ রাখায় ৩০ হাজার এবং ব্লু বেল অটোমেটিক রাইস মিলে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন ধান মজুদ রাখায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলামসহ প্রমুখ।

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক কোন অনুমোদিত অটোরাইস মিলের মালিকগণ পাক্ষিক ছাটাই ক্ষমতার ৫ গুণ পরিমাণ ধান ১ মাসের অধিক সময় ধরে মজুদ রাখলে তা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চাল মজুদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা ১৫ দিনের বেশি সময় মজুদ রাখতে পারবে না।

যারা এই নিয়মের বাইরে গিয়ে অটোরাইস মিলে বা গোডাউনে ধান-চাল মজুদ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। খাদ্যের কৃত্রিম ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে দিনাজপুরের অটোরাইস মিল গুলোতে এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নাই এবং যারা অনুমোদিতভাবে মালামাল স্টোক করছেন তাদেরকে আমরা প্রথমে সর্তক করেছি। যারা আমাদের সর্তকর্তা মানেনি এবং অবৈধভাবে খাদ্য পণ্য মজুদ রেখেছেন তাদেরকে আমরা জরিমানা করেছি।

সেই সাথে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই, যারা এখনো এই নিয়মের মধ্যে আসেননি তারা যেনো নিয়মের মধ্যে আসেন। যেদুটি মিলকে জরিমানা করা হয়েছে তাদের নির্দিষ্ট একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ধান ও চাল গুলো বিক্রি করে দেয়। আর যাদের লাইসেন্স নবায়ন নেই তারা যেনো দ্রæত সময়ে নবায়ন করে ফেলেন। তা না হলে আমাদের অভিযান অভ্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের উপস্থিতিতে একটি সভা হয়। সেখানে সরু চাল ও মাঝারি চালের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আজকে থেকে আমরা মাঠে নেমেছি, অনিয়মের যেকোন খবর পেলেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা পরবর্তীতেও এরকম অভিযান পরিচালনা করব। যেই আইনের বিরুদ্ধে যাবে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। এছাড়াও আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন মিল পরির্দশন করছি, যেগুলোতে অসঙ্গতি পাবো তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য