ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ মাছ শিকারী ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারনে সৃষ্ট জলাশায়।

এক সময়ের ফসলের মাঠ, ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা আহরনের কারনে দেবে গিয়ে বিশাল জলরাশীতে পরিনত হয়েছে, সেই জলরাশী এখন মাছের চাহিদা পুরণ করে দর্শনার্থীদের বিনোদন পিপাশাও পুরণ করছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুর্বাকাশে সূর্য্যর আলো ফুটার আগে থেকে সেখানে মাছ শিকারীদের আনাগোনা শুরু হয়। মাছ শিকারীরা জানায় খনির এই জলাশায় থেকে মাছ শিকার করে প্রায় শাতাধিক জেলে পরিবারের জিবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া বিকেলের সূর্য্য পশ্চিমাকাশে ঢেঁলে পড়ার সাথে সাথে জলাশায় ঘিরে মুখোরিত হয়ে দর্শনার্থীদের পদচারনা। ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ও স্প্রীটবোডে করে জলাশায় ঘুরে সমুদ্রা পাড়ি দেয়ার সাধ গ্রহন করে দর্শনার্থীরা। সেখানে দর্শনার্থীদের ভ্রমন পিপাশা মিঠাতে রয়েছে ছোট-বড় ২০ থেকে ৩০টি নৌকা ও স্প্রীটবোড।

জলাশায়ে ভ্রমন করতে আসা পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গির আলম বলেন বাড়ীর নিকট বিশাল জলাশায় নৌকা ভ্রমন করতে, তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন, একই কথা বলেন জলাশায় ভ্রমন করতে আসা বাসুদেরপুর গ্রামের আমির হোসেন, স্কুল শিক্ষক রমিজ উদ্দিনসহ ভ্রমন করতে আসা দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় বাসীন্দারা জানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির এই জলাশয়টি এখন মাছের খনিতে পরিনত হয়েছে, এই জলাশয়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার দেশী প্রজাতির মাছ, সেই মাছ শিকার করে স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের হাট-বাজারে বিক্রি করছে জেলে পরিবার গুলো।

খনি সুত্রে জানাগেছে ভূ-গর্ভে কয়লা আহরনের কারনে ভূমি অবনমন হয়ে দেবে যেতে শুরু করায়, গত ২০১১ সালে ১৯০ একর জমি অধিগ্রহন করে খনি কর্তৃপক্ষ। এরপর সেখানে বিশাল জলাশায়ে পরিনত হলে, খনি কর্তৃপক্ষ ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথ উদ্যোগে মাছের পোনা ছাড়ে একই সাথে চারিদিকের দেশী প্রজাতির মাছ জলাশায়ে এসে মাছে পরিপুর্ন হয়ে উঠে জলাশায়টি।

বর্তমানে এই জলাশয় থেকে ওই এলাকার দেশি মাছের চাহিদা পুরণ করে আসছে। জলাশায়টি সবার জন্য উম্মুক্ত থাকায় আশপাশ এলাকার প্রায় শাতাধিক জেলে পরিবার জিবিকা নির্বাহ করে, এই জলাশায় থেকে মাছ শিকার করে। সম্প্রতিক জলাশয়টি দৃষ্টি নন্দন হওয়ায় সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন, এক সময় সেখান থেকে ফসল আসলেও, এখন একই জায়গা থেকে কয়লা ও মাছ দুটোয় আসছে, সম্প্রতিক দর্শনার্থীরা ভিড় জমা শুরু করায়, তিনি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য