মোঃ জাকির হোসেন , সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদাতাঃ শত বছরের মধ্যে রেকর্ড করা ৫ দিনের অতি বর্ষনে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় ২ শতাধিক মাটির ঘর ধ্বসে পড়েছে। এতে মাথা গোজার একমাত্র আশ্রয়টুকু হারিয়ে চরম দূর্দশায় পড়েছে ৬০ টি হতদরিদ্র পরিবার। ফলে তারা যেমন নতুন করে ঘর তুলতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে দিনাতিপাত করছে তেমনি অসহায়াবস্থায় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

গত সপ্তাহে নীলফামারী জেলাসহ রংপুর বিভাগে ৫ দিন ব্যাপী অনবরত বৃষ্টি হয়। শেষ দিন ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাতে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া অফিসের হিসেবমতে একরাতে সৈয়দপুরে ২০২ মিলিমিটার ও রংপুরে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে৷ যা এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ইতিহাসে শতবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই প্রবল ও মূলধারার বৃষ্টির ফলে গ্রামাঞ্চলে বন্যা সৃষ্টির সাথে শহরগুলোও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কোথাও হাটু আবার কোথাও কোমড় পর্যন্ত পানিবদ্ধ হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার। পানিতে রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ, পুকুর-ডোবা সব ডুবে, ঘর-গাছ ভেঙে পড়ে, ফসল নষ্ট হয়ে ও মাছ ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানিবন্দি ও কর্মহীন হয়ে পড়ারা খেয়ে না খেয়ে কাটায় বিগত কয়েকদিন।

এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার মানুষেরা পানি অপসারণের পর বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেও। আজও চরম অসহায়ত্বের মধ্যে রয়েছে বৃষ্টির তোড়ে ঘর-বাড়ি ভেঙে যাওয়া মানুষগুলো।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় ২ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কামারপুকুর ইউনিয়নে ৫০ টি খাতামধুপুর উপজেলায় ৫৫ টি, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৭৫টি, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে ৩০ টি এবং বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে ২৫ টি ঘর ভেঙেছে। এগুলোর অধিকাংশই মাটির ঘর। ১০ থেকে ২০টি আধা কাঁচা টিনের ও বাঁশের ঘর।

ঘরভাঙাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান তারা ইতোমধ্যে সংস্কার করলেও বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র মানুষগুলো। সবচেয়ে বেশি দূরাবস্থায় পড়েছে তারা যাদের একমাত্র আবাসস্থল ঘরটিই ভেঙে গেছে। এমন দূর্দশাগ্রস্থ প্রায় ৫০ টি অসহায় পরিবার। দুর্যোগ কাটিয়ে দু’বেলার দুমুঠো খাবারের বন্দবস্ত হলেও মাথাগোঁজার ব্যাবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেই সাথে কিভাবে ঘর ঠিক করবে সে চিন্তায় হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড পশ্চিম বেলপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই পাড়ার ৭ টি মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ টি কোন রকমে মেরামত করা সম্ভব হলেও বাকিগুলো একেবারে মাটিতে মিশে গেছে। নতুন করে তৈরি কর ছাড়া কোনো উপায় নেই। কিন্তু ঘরগুলোর মালিকদের পক্ষে তা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ তারা সবাই খুবই দরিদ্র।

এদের মধ্যে মৃত সোবহানের স্ত্রী আমেনা বলেন, ভিক্ষা করি কোন রকমে পেট চালাই। মাথা গোজার জোড়াতালি দেয়া ভাঙ্গাচোড়া নড়বড়ে একমাত্র ঘরটাও আশ্বিনাা ঝাকাসে (প্রবল ঝড়োবৃষ্টি) তছনছ হয়ে গেছে। কি করে এ ঘর ঠিক করবো ভেবে পাচ্ছিনা। তবে মেম্বার বলেছে সরকারী বরাদ্দ আসলে ঘর করে দিবে।

এই ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মোঃ নুরনবী সরকার জানান, অতি বর্ষনে আমার এলাকায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সমস্যায় পড়া ওয়ার্ডবাসীর পাশে আমার সামর্থানুযায়ী দাড়িয়েছি এবং যথাসম্ভব সহযোগিতা করেছি। প্রায় ১৫ টি মাটির ঘর সম্পূর্ণরুপে ধ্বসে পড়েছে। এতে ওই পরিবারগুলো মহা সংকটে পড়েছে। ভরগুলো দ্রুত নির্মাণ করা দরকার। তাই সরকারি সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি।

কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল চৌধুরীর কাছে মুঠোফোনে ইউনিয়নে কতগুলো ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। প্রয়োজন হলে সরেজমিনে জরিপ করে দেখেন। আমি কোন তথ দিতে পারবোনা।

কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম লোকমান জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি কাচা ও মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য