তুরস্কের একটি যুদ্ধবিমান আর্মেনিয়ার আকাশে সেদেশের একটি জঙ্গিবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে আর্মেনিয়া। তুরস্ক এ অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির একটি সুখোই এসইউ-২৫ জঙ্গিবিমান যখন সামরিক দায়িত্ব পালন করছিল তখন তুরস্কের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় বিমানটির পাইলট নিহত হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ওই মন্ত্রণালয় আরো জানায়, তুরস্কের যুদ্ধবিমানটি আজারবাইজানের গানজা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং এটি আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন আর্মেনিয়ার সেনাদের পাশাপাশি আশপাশের আবাসিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করে।
আর্মেনিয়ার গোলাবর্ষণে আজারবাইজান সীমান্তের বিধ্বস্ত একটি বাড়ি

তবে তুরস্কেরর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন এ অভিযোগকে ‘নির্জলা অসত্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তুরস্কের কোনো এফ-১৬ জঙ্গিবিমান আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয়নি বলে তিনি জানান। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আর্মেনিয়ার বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক ফাখরুদ্দিন আলতুন বলেছেন, “আর্মেনিয়াকে সস্তা প্রচারণা কৌশল ত্যাগ করে তার দখলে থাকা আজারবাইজানের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে।” নগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে চলমান বিরোধে আজারবাইজানকে কঠোরভাবে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক। ঐতিহাসিকভাবে আর্মেনিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ভালো নয়।

পাহাড়ী ওই অঞ্চলটি নিয়ে ২০১৬ সালের পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সম্প্রতি সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে। এতে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী পাইপলাইন ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গিয়েছে।

তিন দিন আগে শুরু হওয়া যুদ্ধে এরইমধ্যে প্রায় ১শ’ মানুষের প্রাণ গেছে; যাদের মধ্যে বেসামরিক লোকজনও রয়েছে।

তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে উভয়পক্ষ সীমান্তে ভারী কামানও মোতায়েন করেছে। লড়াই শুরুর জন্য দুপক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।অন্যান্য দেশও সরাসরি আর্মেনিয়া –আজারবাইজান সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ বাড়ছে।

তুরস্ক আজারবাইজানকে সমর্থন দিলেও ওই অঞ্চলে তাদের মিত্র রাশিয়ার আর্মেনিয়ায় একটি সেনাঘাঁটি আছে। রাশিয়া উভয়পক্ষকে দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যেতে বলেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য