সংক্রমণ কমে আসায় লকডাউন তুলে নিয়ে চলাফেরা আর সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছিল জার্মানি| তবে গত কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ঘরে-বাইরে অনুষ্ঠান আয়োজনে নতুন করে শর্ত আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার|

শীতকালে সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে সরকার| সম্প্রতি দলের নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনায় চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সতর্ক করে বলেন যে, ক্রিসমাসের সময়ে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১৯ হাজার ২০০ পর্যন্ত হতে পারে| তাই জনসমাগমে আবার কড়াকড়ির কথাও ভাবা হচ্ছে|

প্রস্তাবনায় বলা হয়, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ২৫ জনের বেশি এবং ঘরের বাইরের অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি লোক একত্রিত হতে পারবে না| তাছাড়া বার ও রেস্টুরেন্টে অ্যালকোহল বিক্রির সময়সীমাও বেঁধে দিতে চায় সরকার| প্রস্তাবিত এ শর্ত জার্মানির সব অঞ্চলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে না| শুধু যে এলাকায় সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে ৫০ জন পাওয়া যাবে, সে এলাকাতেই এ নির্দেশনা জারি থাকবে| দেশটিতে সম্প্রতি সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নতুন করে বাড়ছে| নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের হাম শহরে কিছুদিন আগে এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ৪০ জন শিশুসহ মোট ১০০ জন সংক্রমিত হয়|

জনগণের চলাচলের বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহের কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়| বার কিংবা রেস্টুরেন্টগুলোকে অতিথিদের পুরো নাম ও ঠিকানা সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে| তা না করলে ৫০ ইউরো জরিমানা গুনতে হবে তাদের| সরকারের এ প্রস্তাবনা রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত হবে| জার্মানির ১৬টি রাজ্য আগে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে আলাদা পদক্ষেপ নিয়েছিল|

জার্মানিতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আর মারা গেছেন দশ হাজার| গত ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে| তবে রোগ নির্ণয়, দমন, প্রতিরোধ ও চিকিত্সায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কমে আসে সংক্রমণ| তবে গত কয়েক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি ভাবনায় ফেলেছে সরকারকে|—ডয়চেভেলে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য