বিতর্কিত অঞ্চল নাগোরনো-কারাবাখকে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যে উভয়পক্ষ সীমান্তে ভারী কামান মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধ বাহিনীগুলো ফিজুলি, জাবরাইল, আগদেরে ও টার্টারমুখি পাল্টা-আক্রমণ শুরু করে হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ফিজুলি শহরের আশপাশে লড়াই চলছিল এবং আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী নাগোরনো-কারাবাখের কয়েক মাইল দূরে দুই দেশের মধ্যবর্তী দেশকেসান অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করেছে।

আর্মেনিয়া এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করে বলেছে, পুরো রাতভর লড়াই হয়েছে এবং নাগোরনো-কারাবাখের সেনাবাহিনী বিভিন্নমুখি হামলা প্রতিহত করেছে।

নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজারের ভিতরে হলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আর আর্মেনিয়া অঞ্চলটিকে সমর্থন দিচ্ছে। ১৯৯০ দশকে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এই অঞ্চলটিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কোনো দেশ।

২০১৬ সালের পর থেকে দেশ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের ঘটনা। এতে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী পাইপলাইন ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের লড়াইয়ে উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে ভারী কামান ব্যবহারের অভিযোগ করেছিল। এ লড়াইয়ে ইতোমধ্যে বহু লোক নিহত ও কয়েকশত লোক আহত হয়েছেন।

রোববার আজারবাইজান এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। অপরদিকে আর্মেনিয়া মঙ্গলবার গোলার আঘাতে ৯ বছর বয়সী এক বালিকা নিহত এবং তার মা ও ভাই আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে।

নাগোরনো-কারাবাখের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার মারতুনিতে একজন মা ও তার শিশু নিহত হয়েছে।

নাগোরনো-কারাবাখের সঙ্গে সামরিক-রাজনৈতিক মিত্রতা সমাপ্তির সম্ভাবনা আর্মেনিয়া বিবেচনা করে দেখছে বলে ক্ষমতাসীন মাই স্টেপ জোটের এমপি লিলিত মাকুন্তস তার ফেইসবুক পেইজে জানিয়েছেন।

যদি দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণ যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় তাহলে আঞ্চলিক শক্তি রাশিয়া ও তুরস্ক এতে জড়িয়ে পড়তে পারে। আর্মেনিয়ার সঙ্গে মস্কোর প্রতিরক্ষা বিষয়ক মিত্রতা আছে আর আর্মেনিয়ার মাধ্যমেই নাগোরনো-কারাবাখ প্রয়োজনী রদস সংগ্রহ করে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। অপরদিকে জাতিগতভাবে তুর্কি নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত আজারবাইজান আঙ্কারার স্বাভাবিক মিত্র।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য