দিনাজপুর সংবাদাতাঃ করোনাভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে গত মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে করে লাইব্রেরি ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়েছে বই ব্যবসায়ীরা। বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে প্রায় ২৮টি লাইব্রেরি বিগত ৬/৭ মাস ধরে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বীরগঞ্জ উপজেলা শাখা’র সভাপতি আব্দুল মালেকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৮টি লাইব্রেরির মালিকদের প্রতি মাসে লোকসান গুণতে হচ্ছে। পৌরশহরে ছোট- বড় মিলে ৮/৯টি লাইব্রেরি আছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুস্তক ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ করে পরিশোধ করতে না পেরে এখন বিপাকে পড়েছে।

বীরগঞ্জ পৌরশহরে উল্লেখযোগ্য লাইব্রেরির মধ্যে শিক্ষক লাইব্রেরি,কিশোর লাইব্রেরি,প্রামাণিক লাইব্রেরি, জঐ ডিজিটাল লাইব্রেরি ও নুরজাহান লাইব্রেরি অন্যতম। এসব লাইব্রেরিতে প্রতিদিন গড়ে বই বিক্রি হতো ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু দীর্ঘদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্ডেন বন্ধ থাকায় বিক্রি নেই বললেই চলে। কোন রকম মাত্র প্রতিষ্ঠান খোলা রেখছেন পুস্তক ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনার আগে যেখানে কথা বলার সময় পেতোনা বই বিক্রেতারা বর্তমানে ক্রেতা না থাকার কারণে অলস সময় পার করছেন অধিকাংশ কর্মচারীরা। কেউ মোবাইলে নেট ব্যবহার করছেন। কেউ নিজেদের দোকানের বই পড়ে সময় পার করছেন। সেখানে প্রায় ঘণ্টা খানেক অবস্থান করেও কোন ক্রেতাসাধারণের দেখা মিলেনি। শিক্ষক লাইব্রেরির মালিক ও পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ জানান, করোনার আগে কাস্টমারের সাথে কথা বলার সময় পেতাম না।

আগে সকাল ৮ টার দিকে দোকানে আসতাম যেতাম রাত ১২ টায়। বর্তমানে ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায় সময়ই বসে কাটাতে হচ্ছে। এভাবে আর বেশি দিন চলতে থাকলে এ পেশা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য