টানা চার-পাঁচ দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। রংপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে বছরের সর্বোচ্চ ২৭৪ মিলিমিটার ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে বছরের সর্বোচ্চ ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ঐসব অঞ্চলের নদনদী ফুলে ফেঁপে উঠেছে। নদনদী উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, গাইবান্ধা, রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের হাজার হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে। আমন ধান ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মরিচ, বেগুন, চিনাবাদাম, মাষকলাইয়ের ডালসহ বিভিন্ন ফসলের।

৭০ বছরের ইতিহাসে রংপুর জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে ডুবে গেছে শহরের অধিকাংশ পাড়া-মহল্লা। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে সড়কসহ বাড়িঘর ও স্থাপনা। আকস্মিক পানির কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর সাধারণ মানুষ। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়রা। হঠাত্ করে এভাবে জলাবদ্ধতায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে রংপুরের বাসিন্দাদের। বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মূল্যবান কাগজপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও ব্যাবসায়িক মালামাল, জিনিসপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হওয়ার পথে। বিশেষ করে যারা একতলা বাড়িতে থাকেন তাদের ক্ষতি হয়েছে বেশি। এলাকাবাসী জানান, এত বড় একটি দুর্যোগে আগে থেকে সিটি করপোরেশন অথবা আবহাওয়া অফিস কেউই কোনো সতর্কবাণী বা পূর্বাভাস দেয়নি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুরজাহান বলেন, আমি ছোট ব্যবসায়ী। ভাড়া বাড়িতে থাকি। হঠাত্ এই পানিতে মালামালসহ বাড়ির সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসারের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেল।

নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর পানিবন্দিদের উদ্ধারে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি টিম। তারা নৌকায় করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, এর আগে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ছিল ২৬৭ মিলিমিটার। এ ধারা আরো দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গাচড়ার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মর্নেয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী আজাদ বলেন, বৃষ্টিপাতের মর্নেয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২০০ ফিট সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য