আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ দালালদের উপস্থিতি ছাড়া রোগীদের ছাড়পত্র না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের ম্যাটিন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। বিলের এক তৃতীয়াংশই যায় দালালদের পকেটে। এভাবে দালালের দৌড়াত্ব বেড়েছে ক্লিনিকটিতে।

অভিযোগে জানা গেছে, গত ৫ দিন আগে সদর উপজেলার হারাটি গ্রাম থেকে নাছিমা খাতুন নামে এক প্রসূতি লালমনিরহাটের মিশন মোড়ের ম্যাটিন ক্লিনিকে যান। রোগী নিয়ে ক্লিনিকের গেটে যেতেই নিজেকে ক্লিনিক স্টাফ পরিচয় দিয়ে এমদাদ নামে একজন এসে রোগীকে নিয়ে জরুরী বিভাগ হয়ে বেডে ভর্তি করেন। রাতে জানানো হয় প্রসূতিকে সিজার করতে হবে। পরামর্শ মত সিজার করা হয়।

রোগী কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ছাড়পত্র নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন রোগীর স্বজনরা। তখন ক্লিনিক থেকে বিশাল লম্বা একটা বিল ভাউচার দেয়া হয়। যেখানে বিল উল্লেখ করা হয় ১৩ হাজার ৯৭০ টাকা। এরপর শুরু হয় দরদাম। কম দেয়ার চেষ্টা করেও পারেননি নাছিমার পরিবার। রেফার্ডেড (ভর্তি করা) এমদাদ ছাড়া কমিশন করার সুযোগ নেই বলে সাফ জানানো হয়। অবশেষে দালাল এমদাদকে ডেকে নিয়ে তার মাধ্যমে চাহিদামত টাকা বুঝে দিলে রোগী নাছিমাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

রোগীর ছাড়পত্রের সাথে দেয়া ব্যায়ের ভাউচারে পরিশোধ দেখানো হয় মাত্র ৯ হাজার টাকা। আগের দেখানো বিলের প্রায় ৫হাজার টাকার কোন হদিস নেই।

প্রসূতি নাছিমার বাবা একরামুল হক বলেন, প্রথম দিন ক্লিনিকের গেটে যেতেই এমদাদ দৌড়ে এসে রোগীকে নিয়ে জরুরী বিভাগে দিয়ে জানায় তার রোগী। আমরা বুঝতে পারি নাই। ছাড়পত্র নেয়ার সময় ১৪ হাজার টাকার বিল দেখানো হয়। কিছু কম দিতে চাইলে এমদাদকে নিয়ে আসতে বলেন। পরে এমদাদের উপস্থতিতে বিল পরিশোধ করার পরে ছাড়পত্র দেয়। কিন্তু পরিশোধ বিল ভাউচারে দেখা যায় মাত্র ৯ হাজার টাকা। বাকী টাকা দালালের দালালি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লালমনিরহাট শহরের রোখছানা নামে একজন শিক্ষিকা বলেন, ম্যাটিন ক্লিনিকে ডাক্টার দেখানোর সিরিয়াল দিতেও দালালকে টাকা দিতে হয়। সেবার মান যাই হোক। টাকা না দিলে কাজ নেই।

ম্যাটিন ক্লিনিকের হিসাব শাখার দায়িত্বে থাকা একজন নারী সাংবাদিক পরিচয় শুনে নিজের নাম প্রকাশের অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ক্লিনিকের নিয়মানুযায়ী রেফার্ডেড ব্যাক্তি ছাড়া মুল বিলের কোন কমিশন হয় না। পুর্বের বিলের সাথে পরের বিল ভাউচারের অমিল প্রসঙ্গে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

ম্যাটিন ক্লিনিকের মালিকদের একজন আশরাফুল আলম বলেন, রেফার্ড বাই হিসেবে যার নাম থাকে তার মাধ্যমে বিল পরিশোধ করাই উত্তম। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

ম্যাটিন ক্লিনিকের মালিকদের অপর একজন হারুন বলেন, এমদাদ আমাদের ক্লিনিকের স্টাফ, দালাল নয়। যেহেতু তিনি ভর্তি করেছেন। তাই ওই রোগীর ভাল মন্দ তিনিই বলতে পারেন। এজন্য বিল পরিশোধে তার প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে তার ক্লিনিকে দালাল নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, ক্লিনিকগুলো দালাল নির্ভর হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকের জন্য যা নেয়, তার বড় অংশই দালালদের পকেটে যায়। এটা মনিটরিং করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ‘ক্লিনিক মালিক অ্যাসোশিয়েশন তাদের চিকিৎসা রেট চার্ট তৈরী করেন। এটাতে সরকারী নজরদারীর কোন নিয়ম নেই। তবে কেউ অভিযোগ দিলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য