সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ পঞ্চগড়-হাড়িভাসা আঞ্চলিক সড়কের তালমা নদীর ভাঙনে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। তীব্র ভাঙনে সেতুর দক্ষিনাংশের একটি ঈদগাহ মাঠ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশের আরেকটি ঈদগাহ মাঠও চলতি বছরের বন্যায় ভাঙন শুরু হয়েছে। আগামী বর্ষা মওসুম আসার আগেই বাঁধ বা প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা না হলে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধসহ অনেক এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে হাড়িভাসা যাওয়ার পথে পাড় হতে হয় তালমা নদী। এই নদীর ওপর নির্মিত সেতু হাফিজাবাদ, হাড়িভাসাসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কয়েক বছরে তালমা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মধ্যে পড়েছে এই সেতুটি। নদীর দিক পরিবর্তনের কারণে বর্ষা মওসুমে পানির স্রোত সেতুর দক্ষিণ অংশে আঘাত করে। বিগত কয়েক বছর ধরেই বর্ষাকালে তীব্র স্রোতে সেতুর দক্ষিণের একটি ঈদগাহ মাঠসহ কয়েক একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বছরও নদীর তীব্র ¯্রােতে সেতুর দক্ষিনাংশের নিচের বালু সরে গিয়ে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

আগে সেতুর পূর্ব পাশ ভাঙনের কবলে পড়লেও এবার পশ্চিম অংশের মাটিও ভেঙে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সেতুর দক্ষিণ অংশের পূর্ব দিকের একটি ঈদগাহ মাঠ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সেতুর পশ্চিম অংশের আরেকটি ঈদগাহ মাঠও ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ আর ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে এই অংশের অনেক জায়গা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। আগামী বর্ষার আগে বাঁধ বা প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা না হলে অবশিষ্ট ঈদগাহ মাঠ ভেঙে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে ওই সেতুটি।

নদী ভাঙন এলাকার বলেয়াপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বারেক জানান, আমাদের গ্রামের দুইটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাঠ ভেঙে নদীতে চলে গেছে। অন্য মাঠটিতেও চলতি বছরের বর্ষায় ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত এই নদীতে বাধ নির্মাণ না করলে বর্ষার পর আর আমাদের ঈদগাহ মাঠ থাকবে না।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, নদী ভাঙন থেকে দু’টি ঈদগাহ মাঠ ও সেতু রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এরই মধ্যে একটি ঈদগাহ মাঠ নদীতে বিলীন হয়েছে। অন্য মাঠটিও এখন বিলীন হওয়ার পথে। দ্রুত এখানে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী বর্ষায় এই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে ঈদগাহ মাঠটিও।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্ষা মৌসূমে শেষে আমরা নদী ভাঙন রোধে প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি। ঈদগাহ মাঠ যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায় আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। আর নদী ভাঙন রক্ষার মূল কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারা ভাঙন স্থানে সিসি ব্লক বা বালুর বস্তা ফেলে সেতু রক্ষা করতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য