আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলায় এখনো পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। খুচরা বিক্রেতারা ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছে পেয়াজ। কিছুদিন আগেও বাজারে পেয়াজ সংকট দেখিয়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও। বর্তমানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে তা ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম না কমে বেড়ে যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষদের মাঝে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলার নেকমরদ বাজার গোগর বাজার ভরনিয়া বাজার ও কাউন্সিল বাজার এবং পৌর শহরের শিবদিঘী বাজার শান্তিপুর বাজার বন্দর গুদরি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে খোজ নিয়ে জানা গেছে, পেয়াজ সর্বনিন্ম ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কোন বাজারে আবার কিছু খুচরা ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি দাম রাখছে পেয়াজের।

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে বাজারে বেশি দামে পেয়াজ বিক্রির কোন সুযোগ নেই। প্রশাসনের এমন নির্দেশনা থাকলেও হারহামেশায় পেয়াজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) পেয়াজের অতিরিক্ত দামের বিষয় নিয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয় উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) প্রীতম সাহার সাথে,তিনি জানান বাজারে পর্যাপ্ত পেয়াজ রয়েছে। পেয়াজের দাম বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুচরা বিক্রেতা যদি বেশি দামে পেয়াজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। সেক্ষেত্রে তাদের পেয়াজ বেশি দামে কেনার উপযুক্ত রশিদ কাগজ দেখাতে হবে। দোকানের সামনে প্রতিদিনের মুল্য তালিকা সাটাতে হবে। নাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছে আমরা স্থানীয় আড়ৎদারদের কাছে স্বল্প পরিসরে পেয়াজ নিয়ে খচুরা বিক্রি করি। তারা যখন যা দাম ধরে তা থেকে কেজি প্রতি সামান্য মুনাফা নিয়ে পেয়াজ বিক্রি করছি। এখানে আমাদের কি করার?

ভরনিয়া বাজারের কাচাঁমাল বিক্রেতা আব্বাস আলী শিবদিঘীর রাজু গোগরের রাজিব বলেন, স্থানীয় পাইকারদের নিকট বর্তমানে আমরা ৮৫ টাকা কেজি দরে পাইকারী কিনে ৫টাকা মুনাফা রেখে ৯০ টাকা দরে পেয়াজ বিক্রি করছি। তবে তারা ৮৫ টাকা কেজিতে পেয়াজ দিলেও কোন রশিদ আমাদের নিকট প্রদান করছে না।

তবে স্থানীয় আড়ৎদাররা বলছেন, এ ব্যবসা করেই সংসার চালায় ঠাকুরগাঁও জেলা আড়ৎ থেকে পেয়াজ নিয়ে আসি তারা যা দাম ধরে। তা থেকে দুই তিন টাকা মুনাফা রেখে আমরা স্থানীয় খুচরা পাইকারদের নিকট বিক্রি করি।

স্থানীয় আড়ৎদার নুর আলম গত বুধবার(২৩ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে বলেন, আমি ঠাকুরগাঁও সেলিম আড়ৎ থেকে ১২ বস্তা পেয়াজ ৮০ টাকা দরে ক্রয় করেছি। সেখান থেকে নিয়ে আসার খরচ সহ অন্যান্য খরচ মিলে কেজি প্রতি ৮২ টাকা পরে যায়। সে পেয়াজ আমি স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের নিকট কেজি প্রতি ৮৫ টাকায় বিক্রি করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলসি পেয়াজ বাজারে নেই। যা আছে তা দেশি পেয়াজ। এছাড়াও তার কাছে পেয়াজ বেশি দামে কেনার রশিদ কাগজ রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য