সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় নিজ কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক সন্তানের জননী মাসুমা বেগম (২২) নামের এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বৃহষ্পতিবার পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের খাসমহল গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধু মাসুমা বেগম ওই এলাকার আনিছুর রহমানের স্ত্রী। পঞ্চগড় থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পঞ্চগড় হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। তবে ওই গৃহবধুর দাদার অভিযোগ তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ৬ বছর আগে সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের মকছেদ আলীর মেয়ে মাসুমা বেগমের সাথে একই উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের খাসমহল গ্রামের আতাব উদ্দিনের ছেলে আনিছুর রহমানের বিয়ে হয়। তাদের ৪ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আনিছুর রহমান ঢাকায় চাকরী করে। এর মধ্যে একবার স্ত্রী মাসুদাকে সে ঢাকায় নিয়ে রেখেছিল। পরে তাকে সন্তানসহ নিজ বাড়িতে রাখে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির লোকজন তাকে নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত মাসুমার দাদা সইম উদ্দীন বলেন, স্বামী আনিছুরের অনুপস্থিতিতে তার মা-বাবা ও ভাই মাসুমাকে প্রায় সময় নির্যাতন করতো। এ নিয়ে বিচার সালিশও হয়। তার দাবি মাসুমার লাশ উদ্ধারের সময় তার পা মাটিতে লাগা ছিল। এটা আত্মহত্যা হতে পারে না। তাকে বাড়ির সবাই নির্যাতন করে হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করছে। আমরা তাকে হত্যার জন্য থানায় মামলা করব।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ এস.আই মোহাম্মদ নুর আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার ময়না তদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। লাশ উদ্ধারের সময় নিহত গৃহবধুর দু’পা মাটিতে লাগানো ছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, সুরতহালে তার শরীর তেমন একটা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে আমারও সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা দেয়নি বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য