সৌদি আরবের নৌবাহিনী ফ্রান্সের কাছ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চালানের অত্যাধুনিক স্পিডবোট গ্রহণ করেছে। প্যারিসের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের এক চুক্তির আওতায় এসব যুদ্ধ সরঞ্জাম গ্রহণ করেছে রিয়াদ।

সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি রাজকীয় নৌবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ফাহেদ আল-গুফাইলি তার দেশের পূর্ব উপকূলে এসইচএসআই-৩২ মডেলের এসব দ্রুতগামী নৌযান গ্রহণের অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেন। এসব নৌযানকে বর্তমান বিশ্বের ‘সর্বাধুনিক স্পিডবোট’ আখ্যায়িত করে জেনারেল গুফাইলি বলেন, এসব যুদ্ধাস্ত্র সৌদি নৌবাহিনীর যুদ্ধ করার ক্ষমতা বাড়াবে এবং এই রাজতান্ত্রিক দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে।

ফ্রান্সের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরব কয়েক চালানে প্যারিসের কাছ থেকে ৩৯টি দ্রুতগামী সামরিক নৌযান পাবে বলে কথা রয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র জার্মানি সৌদি আরবের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রি বন্ধ রেখেছে। বার্লিন বলেছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসন ও তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ভিন্ন মতাবলম্বী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগীর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাজেট গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব অন্যতম। দেশটি তার বার্ষিক জিডিপি’র শতকরা ৮ ভাগেরও বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করে। স্টকহোমের আন্তর্জাতিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র আমদানিকারক দেশ ছিল সৌদি আরব। এই পাঁচ বছরে দেশটি আগের পাঁচ বছরের তুলনায় শতকরা ১৩০ ভাগ বেশি অস্ত্রসস্ত্র আমদানি করেছে।

সৌদি আরবের আলে সৌদ সরকার ২০১৫ সালের মার্চ মাসে তার প্রতিবেশী দারিত্রপীড়িত ইয়েমেনে ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করে। জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের দমন ও সৌদি-সমর্থিত সাবেক হাদি সরকারকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে এখনো সে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ। কিন্তু গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অন্তত ১০ হাজার নিরীহ মানুষ হত্যা করা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি সৌদি আরব। -পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য