যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা এই মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত দেশ ভারতের তুলনায় এই মৃতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগৃহীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৬৯৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫১২ জন। রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দশ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে।

সর্বোচ্চ মৃতের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রাজিলের অবস্থান। ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তবে ১৬ এপ্রিল দেশটির সর্বোচ্চ দৈনিক মৃতের রেকর্ড ২ হাজার ৮০৬ জনের চেয়ে কম।

করোনা মহামারির শুরুর দিকে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা হতে পারে দুই লাখ।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, শুরুর দিকে তিনি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতাকে খাটো করে দেখেছিলেন কারণ তিনি চাননি আতঙ্ক তৈরি হোক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন জাতীয়ভাবে সবগুলো জরিপে এগিয়ে রয়েছেন এবং দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মহামারি মোকাবিলা ও অর্থনীতির নিম্নগতি রোধ করতে না পারায় অনেক ভোটারের সমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর আশঙ্কা ১০ অক্টোবর নাগাদ দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২০ সালের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বরে দৈনিক মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি হয়েছে টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য