যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সদ্য প্রয়াত বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গের স্থলে আগামী সপ্তাহে একজন নারীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

গিন্সবার্গের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ আদালতের খালি হওয়া বিচারপতির আসন পূরণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকানদের তুমুল রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই শনিবার ট্রাম্প একথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে শুক্রবার ৮৭ বছর বয়সে গিন্সবার্গের মৃত্যু হয়।

লিঙ্গ সমতার দৃঢ় সমর্থক এই নারী বিচারপতি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ নারীবাদী হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থিদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আগে তার মৃত্যু ডেমোক্র্যাটদের জন্য দুঃসংবাদ হিসেবে হাজির হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রায় ও নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ আদালতের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে মতাদর্শগত ভারসাম্য থাকাটা জরুরি বলেও মনে করছেন অনেকে।

ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন সদ্য প্রয়াত বিচারপতির শূন্যস্থান পূরণের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু ট্রাম্প এতদিন সময় নিতে রাজি নন। তিনি ‘যত দ্রুত সম্ভব’ গিন্সবার্গের উত্তরসূরীকে শপথ পড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ অবস্থানই ডেমোক্র্যাটদের ভীত করে তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, রিপাবলিকানরা এমন একজনকেই মনোনয়ন দেবে, যার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা কয়েক দশকের জন্য নিশ্চিত করে ফেলবে।

“আগামী সপ্তাহেই আমি একজনের নাম সামনে নিয়ে আসবো। তিনি একজন নারীই হবেন। আমার মনে হয়, (গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত) একজন নারীই হওয়া উচিত, কেননা সত্যিকার অর্থে আমি পুরুষদের চেয়ে নারীদেরই বেশি পছন্দ করি,” শনিবার নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে বলেছেন ট্রাম্প।

এদিন ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় তার অনেক সমর্থককেই ‘আসন পূরণ কর’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্টের এক মেয়াদে সর্বোচ্চ আদালতের তিন বিচারক মনোনয়ন দেওয়ার এ বিরল সুযোগ ট্রাম্প যেন গ্রহণ করেন।

রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট তার চলতি মেয়াদেই রক্ষণশীল ব্রেট কাভানহ ও নেইল গোরসাচকে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক পদে বসিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা আমৃত্যু এ পদে থাকার সুযোগ পান।

ট্রাম্প এর আগে কেন্দ্রীয় আপিল আদালতের দুই নারী বিচারক অ্যামি কোনি বেরেট ও বারবারা লেগোয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

গিন্সবার্গের শূন্য স্থানে এই দুই নারী বিচারকের মধ্য একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এ দু’জনের যে কোনো একজন সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হলে সুপ্রিম কোর্ট অনেক দিনের জন্য রিপাবলিকানদের দিকেই হেলে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বেরেট ও লেগোয়ার পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি কাউন্সেল কেট কোমারফোর্ড টডের নামও বাতাসে ভাসছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নতুন বিচারপতি মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য ২০১৬ সালের উদাহরণও টানছেন। সেবার সিনেটের রিপাবলিকানরা সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির শূন্য পদে বারাক ওবামার মনোনয়ন আটকে দিয়েছিলেন।

সেসময় সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা মিচ ম্যাককনেল ওই পদক্ষেপের পেছনে ‘নির্বাচনের বছর’কে কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এবার ম্যাককনেলের অবস্থান একেবারেই বিপরীত।

শুক্রবার রিপাবলিকান এ সিনেটর বলেছেন, ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে বসাতে তিনি তৎপর থাকবেন; এজন্য নির্বাচনের তারিখের আগেই সিনেটে এ সংক্রান্ত ভোটের ব্যবস্থা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য