সাধারণত হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আসামিকে হাকিমের কাছে হাজির করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার উপজেলা পরিষদের মালি রবিউল ইসলামকে সে উদ্দেশ্য নিয়েই বৃহস্পতিবার সকালে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

কিন্তু দিনভর চেষ্টায়ও তার কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা যায়নি। এরপর সন্ধ্যায় তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি নিয়েছে ডিবি।

আসামি রবিউলকে সাত ঘণ্টা পর আদালত থেকে নিজের হেফাজতে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তদন্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় বলেন, “আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”

বিচারিক হাকিম আনজুমান আরা আসামি রবিউলকে ফের রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

র‌্যাবের বক্তব্য উল্টে দিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর রবিউলকে গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে ছয় দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ডিবি।

সাধারণত আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে আসামি সরাসরি আদালতে হাজির করে সেই আবেদন জানায় পুলিশ।

রবিউলের জবানবন্দি গ্রহণ করতে তাকে এজলাসে না নিয়ে সকালে বিচারকের কক্ষে নেওয়া হয়েছিল বলে আদালত কর্মীরা জানিয়েছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিই সাধারণত নেওয়া হয় হাকিমের খাস কামরায়।

কিন্তু রবিউল এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি আবেদন করে বলে আদালত কর্মীরা জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ ইউএনওর উপর হামলা: সেই রাতে রবিউল বিরলে নিজ বাড়ীতে ছিল দাবি এলাকাবাসীর

এবিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশশ্ন করলেও তা এড়িয়ে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর আসামিকে নিয়ে দ্রুত আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত ওয়াহিদা ও তার বাবা ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন।

আলোচিত এই ঘটনার দুদিন পর র‌্যাব স্থানীয় যুবলীগ সদস্য আসাদুল হক, রং মিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাস গ্রেপ্তার করে দাবি করেন, আসাদুল চুরি করতে গিয়ে ইউএনওর উপর হামলা করার কথা ‘স্বীকার’ করেছেন।

তবে এই ঘটনা নিছক চুরির ঘটনা হিসেবে মানতে আপত্তি জানায় সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সমিতির নেতারা দাবি করেন, ওয়াহিদার উপর হামলা পরিকল্পিত।

এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন করে রবিউলকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে বলেন, রবিউলও হামলায় জড়িত থাকার কথা ‘স্বীকার করেছেন’। আর হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়িটিও উদ্ধার করা হয়েছে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে।

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আসাদুল এই ঘটনায় জড়িত নয় বলে দাবি করেন ডিআইজি দেবদাস।

রবিউলকে তার বাড়ি ঘোড়াঘাটের ১০০ কিলোমিটার দূরের বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিউল ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদে মালির পদে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি চুরির অভিযোগে বরখাস্ত হন বলে উপজেলা পরিষদের এক কর্মচারী জানিয়েছেন।

তবে রবিউলের স্বজন ও প্রতিবেশীদের দের দাবি, ঘটনার রাতে রবিউল তার এলাকাতেই ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য