সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ পঞ্চগড়ে উপজেলা সদরের ভেলকুপাড়া থেকে রাতের এক একর চা বাগানের কাঁচা পাতা কেটে নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে চুরির ঘটনাটি ঘটে। পরদিন শনিবার ক্ষুদ্র চা চাষী ও জমির মালিক আবুল কাশেম প্রধান বাদী হয়ে স্থানীয় লতিফুল কবিরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

চুরি অভিযোগ দাখিলের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে। এরপর থেকে তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি নথিভুক্ত করতে দিনের পর দিন ঘুরছেন ক্ষতিগ্রস্থ চা চাষী। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অভিযোগ আমলে না নিয়ে ঘটনাটি মিমাংসার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ।

লিখিত অভিযোগ ও ক্ষতিগ্রস্থ চা চাষী জানায়, তিন বছর আগে সদর উপজেলার ভেলকুপাড়া এলাকায় পৈত্রিক এক একর জমিতে চা চাষ শুরু করেন ক্ষুদ্র চা চাষী ও জমির মালিক আবুল কাশেম প্রধানসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। এরই মধ্যে একাধিকবার কাঁচা চা পাতা বিক্রিও করেন তারা। তবে জমির মালিক পক্ষে নিকটাত্বীয় লতিফুল কবির প্রধানও দীর্ঘদিন থেকে জমিটি তাদের বলে দাবি করে আসছেন।

এ নিয়ে একটি মামলাও রয়েছে। এরই মধ্যে ৪ সেপ্টেম্বর রাতের আধারে কে বা কারা বাগানের কাঁচা চা পাতা কেটে নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া চা পাতার মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি হতে পারে বালে বাগান মালিকের ধারণা। এ ঘটনায় পরদিন চা চাষী মালিক আবুল কাশেম প্রধান বাদী হয়ে তার আত্বীয় লতিফুল কবির প্রধানসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি চুরির অভিযোগ দেন। কিন্ত ১৪ দিনেও মামলাটি নথিভূক্ত না করে পুলিশ অভিযুক্তদের সাথে মিমাংসার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থ চা চাষীর।

জমির মালিক ও ক্ষতিগ্রস্থ চা চাষী আবুল কাশেম প্রধান বলেন, আমরা কষ্ট করে আমাদের দখলে থাকা পৈত্রিত জমিতে চা বাগান করেছি। এর আগেও একবার একই জমি থেকে কাঁচা পাতা চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখনও থানায় অভিযোগ করে আমরা কোন প্রতিকার পাইনি। জমিটির মালিকানা নিয়ে লতিফুল কবির পক্ষের সাথে একটি মামলা চলমান আছে। কিন্তু রাতের আধারে তারা দলবল নিয়ে আমাদের বাগান থেকে কাঁচা পাতা চুরি করে কেটে নিয়ে গেছে। নাম দিয়ে চুরির এজাহার দিলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় ১৪ দিনেও চুরির মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়নি। উল্টো পুলিশ তাদের সাথেই মিমাংসার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ নিয়ে সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আক্কাস আহামেদ বলেন, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চা বাগানের ওই জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। একটি মামলা চলমান রয়েছে। এজন্য মামলাটি নথিভূক্ত না করে মিমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। #

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য