ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি। বুধবার ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ফের লাদাখের প্যাংগং সো লেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এদিন দুই দেশের সেনারা শূন্যে গুলি চালায়।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ঠিক আগে আগেই নতুন করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় লাদাখে। প্যাংগং লেকের উত্তরে ফিঙ্গার ৪-এর কাছে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ২০২০ সালের ২৯-৩০ আগস্ট চীন-ভারত সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে এ নিয়ে অন্তত তিন দফায় সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।

জানান গিয়েছে ফিঙ্গার ৩ ও ফিঙ্গার ৪ যেখানে মিলেছে, সেই সিরিজাপ রেঞ্জের ওপর বিবাদে জড়িয়ে পড়ে উভয় দেশের জওয়ানরা। এ সময় পরস্পরকে সতর্ক করতে শূন্যে ২০০ থেকে ৩০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটায় উভয় পক্ষ।

বর্তমানে লেকের দুই ধারে মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে চীনা ও ভারতীয় সেনারা।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর দাবি, যাবতীয় বোঝাপড়া ভঙ্গ করে চীন সীমান্তে প্ররোচনা দিচ্ছে। তারা সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলছে। ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

রাজনাথ বলেন, ভারতীয় জওয়ানরা যখন প্রয়োজন ধৈর্য ধারণ করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেখানে দরকার সেখানে নিজেদের বীরত্ব প্রদর্শন করছে।

এই মুহুর্তে প্যাংগংয়ের দুই প্রান্তে, গোগরা ও কোংগকা লা-তে উত্তেজনার কথা অবশ্য স্বীকার করেছেন রাজনাথ।

প্যাংগংয়ে আগে ভারত ফিঙ্গার ৮ অবধি প্যাট্রোলিং করত। ভারতের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ফিঙ্গার ৮ দিয়ে যায়। অন্যদিকে চীনের দাবি, ফিঙ্গার ৪-ই হচ্ছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা। এখন চীন ফিঙ্গার ৪-এ চলে আসায় প্রায় আট কিলোমিটার পথে ভারত আর প্যাট্রোলিং করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য ফিঙ্গার ৪-এর কাছে কিছু চূড়ার দখল নেয় ভারত। মূলত এ নিয়েই এদিনের বিবাদের সূত্রপাত, যা শেষ পর্যন্ত শূন্যে গুলি ছোঁড়া পর্যন্ত গড়িয়েছে।

সীমান্তের পরিস্থিতি যাই হোক পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে দেশবাসীকে আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার দাবি, সীমান্তে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় জওয়ানরা প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য