র‌্যাবের বক্তব্য উল্টে দিয়ে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলাকারী হিসেবে যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ, সেই রবিউল ইসলামকে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে’ বলে দাবি করছেন তার এলাকার বাসিন্দারা।

তারা বলছেন, যে রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ওয়াহিদা খানমের বাড়িতে ঢুকে তার উপর হামলা হয়, সেই রাতে রবিউল বিরল উপজেলায় তার নিজের বাড়িতেই ছিলেন।

রবিউল ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন দাবি করে এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চেয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।

রবিউল ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদে মালির পদে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বরখাস্ত হন। তার বাড়ি ঘোড়াঘাটের ১০০ কিলোমিটার দূরের বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়র সাক্ষাতকারে প্রতিবেশী মাসুদ রানা বলেন, ২ সেপ্টেম্বর রাতে রবিউলসহ তারা এক সঙ্গে এশার নামাজ পড়েছেন এবং পরদিন সকালে জমিতে কাজও করেছেন।

ঘোড়াঘাটে ইউএনওর উপর হামলার ঘটনার পর র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ঘটনাটি চুরির ঘটনা।

র‌্যাবের ভাষ্যে, আসাদুল হক (৩৫) নামে যুবলীগের এক কর্মী চুরি করতে ঢুকে ইউএনওকে আঘাত করেছিলেন। তার সহযোগী ছিল নবীরুল ইসলাম (৩৪) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৮) নামে অন্য দুজন।

আসাদুল এই হামলায় তার ‘সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’ করেছেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

গত শনিবার দুপুরে বিরলের ভীমপুর গ্রামে সাংবাদিকরা গেলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রবিউলের পক্ষে বলতে থাকেন। তার বাড়িতেও ভিড়।

রবিউলের ভাই মহসীন জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ডিবি পুলিশ রবিউলকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন তাকেসহ রবিউলের স্ত্রী শাবনাজ ও মা রহিমা বেগমকে নিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশ তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন রবিউলের ভাই।

রবিউলকে ১১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতের মাধ্যমে হেফাজতে নিয়ে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

তবে রবিউল কেন হামলা করেছিলেন, তা এখনও খোলসা করেনি পুলিশ।

সুত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য