দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর সদর উপজেলার কালিতলা নিবাসি মৃত নরেশ চন্দ্র ব্যানার্জি, মাতা- মৃত কল্যাণি রাণি ব্যানার্জির পুত্র এবং বাপ্পি ব্যানার্জির ছোট ভাই শ্রী দুর্জয় কুমার ব্যানার্জি কোতয়ালী- চিরিরবন্দরের মধ্যবর্তি মাদারগঞ্জ হাটের উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী চিবুকা দেবীর মন্দিরে পুরোহিতের কাজে নিয়োজিত ছিল।

উক্ত মন্দিরে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় চিরিরবন্দর উপজেলার আরোজি গোলাহার গ্রামের শ্রী টুলু রাম দাস ও মাতা রেনু বালা দাসের এক মাত্র কণ্যা শ্রী মতি সনেকা রানী দাসের সাথে ২০০০ সালে এফিডেভিট মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এক বছর সংসার করার পর সনেকা রানি দাসকে তার বাবার বাড়িতে রেখে দুর্জয় কুমার ব্যানার্জি তার বড় ভাই বাপ্পি ব্যানার্জি এবং ছোট বোন তিলত্তমা ব্যানার্জি তাকে সুকৌশলে তাদের বাড়ি থেকে জেলার ফুলবাড়ীতে নিয়ে যায়।

ফুলবাড়ীতে গিয়ে বাপ্পি কুমার ব্যানার্জি সনেকা রানি দাসকে একটি ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সনেকা রানী দাস উপায় অন্তর না পেয়ে ফুলবাড়ীতে খোজাখুজি করে না পেয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস্ ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), দিনাজপুর ইউনিটে একটি অভিযোগ দায়ের করলে দুর্জয় কুমার ব্যানার্জি উপস্থিত না হয়ে তার বড় ভাই বাপ্পি ব্যানার্জি উপস্থিত হয়।

অসহায় সনেকা রানী দাস ব্র্যাক- বিডিপি লিগ্যাল এইড প্রোগ্রামে অভিযোগ দাখিল করলেও তার বড়ভাই বলে আমার ছোট ভাই নিখোজ। এমতাবস্থায় সনেকা রানী দাস ন্যায় বিচারের দাবিতে জেলা দিনাজপুরের বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘ দিন ধরে কোন প্রকার ন্যায় বিচার না পেয়ে সনেকা রানী দাস বিভিন্ন মহলে ন্যায় বিচারের দাবিতে যোগাযোগ করতে থাকে।

তারই সূত্র ধরে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার কৃষানবাজারস্থ সিডিসি প্রাঙ্গনে ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস্ ইন্ট্যারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দিনাজপুর জেলা কমিটি, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি), দিনাজপুর এবং আমিই পারি নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় এলাকাবাসির অংশগ্রহনে শ্রী দুর্জয় কুমার ব্যানার্জী কর্তৃক নির্যাতিত শ্রীমতি সনেকা রানী দাসকে বিবাহ পরবর্তী ছেড়ে দেওয়া ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ন্যয় বিচারের দাবীতে এক মানববন্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

উক্ত মানববন্ধন কার্যক্রমে নির্যাতিত অসহায় নারী সনেকা রানী দাস, তার পিতা টুলু রাম দাস এবং মাতা রেনু বালা দাস তাদের অসহায়ত্বের করুন কাহিনী তুলে ধরেন। মানববন্ধন কার্যক্রমে নির্যাতিত সনেকা রানী দাসের এলাকার সচেতন নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও এ কার্যক্রমে ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস্ ইন্ট্যারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি, সিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক এবং আমিই পারি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী যাদব চন্দ্র রায় এর সক্রীয় নেতৃত্বে আরও অংশগ্রহন করেন ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস্ ইন্ট্যারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য মোঃ রাজু আহম্মেদ, মোঃ মঞ্জু হোসেন, রাজেশ রায় এবং তপন রায়। নেতৃবৃন্দরা সনেকার নির্যাতনের ন্যায় বিচার সহ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের উচ্চ মহলের সুদৃষ্টি কামনা করে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে মাননীয় জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য