আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ইউএনও’কে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিজের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেয়া সেই মেধাবী ছাত্রী শাহিনা আক্তারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর। সোমবার সকালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র কাযার্লয়ে তাকে ডেকে নিয়ে নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বই উপহার দেন জেলা প্রশাসক । এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন, ইউএনও সামিউল আমিন, সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরল আমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌস আহম্মেদ ও সমাজ সেবা কর্মকতার্ মাহবুব আলম। শাহিনা আক্তার হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্রী ও ওই উপজেলার উওর ধুবনী গ্রামের সাইরুদ্দিনের মেয়ে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শাহিনা আক্তারকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক বাল্য বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন তার বাবা-মা। উপায় না পেয়ে শাহিনা বাড়ি থেকে পালিয়ে তার এক বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওই বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে প্রথমে হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলমকে ফোন করে সহযোগিতা চান ওই ছাত্রী। তার কাছে তেমন সহযোগিতা না পেয়ে হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিনকে ফোন করে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে সহযোগিতা কামনা করেন শাহিনা। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। পরে ইউএনও সামিউল আমিন হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলমকে সাথে নিয়ে প্রথমত শাহিনা আক্তারকে তার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন। পরে ইউএনও নিজ গাড়ীতে করে শাহিনাকে নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হন। এ সময় তার বাবা সাইরুদ্দিনের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আইয়ুব আলীর জিম্মায় দেন শাহিনাকে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, শাহিনা আক্তার নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে আমাদের সমাজকে বুঝিয়ে দিয়েছেন নারীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। আর যেন একটি মেয়েরও বাল্যবিয়ে না হয় সে জন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য