জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন, এর ফলে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোটে তিনি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন।

এলডিপির সভাপতি নির্বাচনে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দলীয় সাংসদদের ৩৯৪ ভোট আর ৪৭টি প্রদেশের তৃণমূল নেতাদের ১৪১টি ভোট গ্রহণের কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি ভোট কম পড়ে। ভোটের ফলাফল বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ৫৩৪টি ভোটের মধ্যে ৭১ বছর বয়সী ইয়োশিহিদে সুগা পেয়েছেন ৩৭৭ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পেয়েছেন ৮৯ ভোট আর অপর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পেয়েছেন ৬৮ ভোট।

নিয়ম অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত সভাপতিই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বুধবার পার্লামেন্টে আরেকটি ভোটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়া হবে। পার্লামেন্টে এলডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের নতুন নেতাই নিশ্চিতভাবে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীত্বের পাশাপাশি সুগা এলডিপির নেতৃত্বও দিবেন।

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৮ অগাস্ট হঠাৎ করেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন আবে। জাপানে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আবে বেশ কয়েক বছর ধরে ‘আলসারেটিভ কোলাইটিস’ রোগে ভুগছেন।

শিনজো আবের পদত্যাগের পর তার দল থেকে প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার প্রতিয়োগিতায় নামেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইশিবা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির অন্যতম নীতি নির্ধারক কিশিদা এবং শিনজো আবের আশীর্বাদপুষ্ট ও দীর্ঘদিনের মন্ত্রিপরিষদ সচিব সুগা।

১৯৭৩ সালে টোকিও হোসেই নামক এক নৈশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক করা ইয়োশিহিদে সুগার জন্ম হয় এক কৃষক পরিবারে।

নিজের উপার্জিত অর্থে পড়াশুনা করা সুগা ১৯৮৬ সালে এলডিপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে কানাজাওয়া প্রদেশ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্ব থাকা সুগা সরকারের নীতি নির্ধারকের ভূমিকায়ও ছিলেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুগা শিনজো আবের রেখে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীত্বের ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ পূরণ করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য