সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নে ফজলুল হক (৬২) নামে এক ইউপি সদস্যের ওপর অর্তকিত হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাষ দিয়েছেন তেঁতুলিয়া থানার ওসি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তেঁতুলিয়া থানায় কাজীগছ এলাকার সিরাজ আলী ও তাহের আলীর মধ্যেকার জমি বিরোধ নিয়ে একটি সালিসে বসেন ইউপি সদস্য ফজলুল হক। এ সময় জমি বিরোধের রায় তাহের আলীর বিপক্ষে গেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যায়। পরে শালবাহান রোড বাজারে তাহের ও তার ছেলে আবু হাসান ইউপি সদস্য ফজলুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।

এরই জেরে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শালবাহান রোড বাজার হতে বাড়ি ফেরার পথে ফজলুল হক, তার ছেলে ও জামাতা জসীম উদ্দীনের ওপর তাহেরের পরামর্শে একই এলাকার ইকবাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা অর্তকিত হামলা করে এলোপাথারী মারধর শুরু করে। এ সময় ফজলুল হকের চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে ইকবাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পালিয়ে যায়। এ সময় ইকবাল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলতে থাকে, এবারের মত বেঁচে গেলি, পরে তোকে দেখে নিবো। তুই কত বড় মেম্বার হইছিস তোর মেম্বারী ছুটায় দিবো। এ ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য ফজলুল হক নিজের ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন নিয়ে খুব আতঙ্কে আছেন।

ইউপি সদস্য ফজলুল হক জানান, আমি দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কোনদিন কারো সাথে বিবাদে জড়াইনি। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে একটি জমিজমা সংক্রান্ত শালিশের জেরে আবু তাহের ও তার পুত্র আবু হাসান আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় আমি নিজেকে খুব নিরাপত্তাহীন মনে করছি। এ নিয়ে আমি তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো জহিরুল ইসলাম জানান,এ বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য