সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর জঙ্গি বিমানগুলো ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের ব্যারাক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চলিয়েছে।

রোববার ভোররাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আল আরাবিয়া আরও জানিয়েছে, জোট বাহিনী সানার উত্তরে আল দেলমি বিমান ঘাঁটিতে হুতিদের চারটি ড্রোনও ধ্বংস করেছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে জোট বাহিনীর পক্ষ থেকে খবরটি নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই বাহিনীটি একদিন আগেও সানার দুটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার হুতিরা দাবি করেছিল, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে’ হামলা চালিয়েছে।

তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই সৌদি জোট সানায় হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিয়াদে হামলা হওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি জোট। শুধু বলেছে, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক-বোঝাই ড্রোনকে বাধা দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে তারা।

গত প্রায় এক বছর ধরে সানায় বোমাবর্ষণ করা থেকে অনেকটাই বিরত ছিল সৌদি জোট। গত বছরের সেপ্টেম্বরে হুতিদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করার পর থেকে এমন অবস্থান নিয়েছিল তারা। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপের করে যুদ্ধের প্রধান একটি পক্ষ হয়ে ওঠে সৌদি জোট।

ইয়েমেনের যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক লাখ লোক নিহত হয়েছে এবং এ যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট তৈরি করেছে বলে ভাষ্য জাতিসংঘের।

২০১৪ সালে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সুন্নি প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানাসহ দেশটির অধিকাংশ শহর দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা।

হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টায় ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থিত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য