সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে ওই আইনজীবিকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শনিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে সড়কে মানববন্ধন করেছে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারসহ স্থানীয়রা। তারা ওই আইনজীবীসহ সহযোগিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের মোলানি গ্রামে। অভিযুক্ত আইনজীবী হাবিবের বাড়ি উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের বারাগাঁও-দলুয়া গ্রামে। ওই আইনজীবীর কাছে সুদে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা। সেই সূত্রে ওই কিশোরীর সাথে পরিচয় হয় হাবিবের। গত বৃহস্পতিবার ওই কিশোরী মায়ের মাসির বাড়ি দাড়িমুনি বারঘাটিতে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সেখানে চলে যান হাবিব। সে ওই স্কুল ছাত্রীকে জানায় তার বাবা তাকে সাথে করে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেছেন।

তাকে ইজিবাইকে করে আটোয়ারী উপজেলা সদরের কালিকাপুর গ্রামের সুশীলের বাড়িতে নিয়ে যায় সে। সেখানে একটি ঘরে ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হাবিব। এ সময় স্কুল ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় হাবিবকে আটক করে এবং ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পরে দীর্ঘ সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করে প্রভাবশালীরা। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতেই ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার দুই সহযোগির বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আটোয়ারী থানার ওসি ইজার উদ্দীন বলেন, স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী আইনজীবী হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামী পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ওই স্কুল ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য