পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামি দাতব্য সংস্থাগুলো ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই দাতব্য সংস্থার অর্থায়নেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভারতবিরোধি কর্মকাণ্ড হয় বলেও দাবি করেন তারা। শুক্রবার একটি ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এমনটি জানান।

এ বিষয়ে মার্কিন সংগঠন মিডল ইস্ট ফোরামের ইসলামিস্ট ওয়াচ প্রজেক্টের পরিচাল সেম ওয়েস্ট্রোপ বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে শত শত ইসলামি দাতব্য সংস্থা রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ইসলামিক রিলিফ যেটির পৃষ্ঠপোষকতা করে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আরেকটি হলো মুসলিম এইড যেটির পৃষ্ঠপোষক জামাতে ইসলামি।

ইসলামিস্ট ওয়াচের মতে, পশ্চিমা সরকারদের কাছে থেকে এই দুটি দাতব্য সংস্থা দশ হাজার ডলার পায়। মুসলিম এইড শুধু কাশ্মীরের প্রতিনিধিদেরকেই টাকা দেয় না এটি সেখানকার বিদ্রোহীদেরকেও অর্থ দেয়।

সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন নিয়ে গবেষণাকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি সংস্থার পরিচালক আভা শঙ্কর বলেন, ইউএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশন নামে মার্কিন দাতব্য সংস্থাটি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিজস্ব একটি পলিটিক্যাল এজেন্ডা রয়েছে। প্রতিবছরই এরা মুসলিম প্রতিরক্ষা দিবস পালন করে এবৎং সেখানে তারা কাশ্মীর এবং ফিলিস্তিনিদের বিষয়গুলো তুলে ধরে। ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীর বিষয়ক ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পরেও এরা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। সংস্থাটি তখন ভারতকে চাপ দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছেও আবেদন জানিয়েছিল এবং ওআইসিতেও তারা একই আবেদন করেছিলো।

হলি ল্যান্ড ফাউন্ডেশন ফর রিলিফ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এবং সেন্টার ফর ইসলাম এন্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স নামের দুটি ইসলামি দাতব্য সংস্থার নাম উল্লেখ করে আভা শঙ্কর আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট এবং তাদের তুরস্কের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা মিডল ইস্ট ফোরামের পরিচালক ক্লিফর্ড স্মিথ বলেন, ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড যারা চালায় তাদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে ভারতীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকান মুসলিম। দ্বিতীয়ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামিক গ্রুপ। তৃতীয় হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যচিত্তিক ইসলামি গ্রুপ যারা কিনা ইসরেলবিরোধী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য