চীনের উহান থেকে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার ৯ মাসের মধ্যে বিশ্বে নতুন করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ২ হাজার ১৪১ জন ছিল এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৭৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৬ জনে।

মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল। করোনাভাইরাসে এখানে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৫৩৯ জনের। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া মোট কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৯ জন।

মৃত্যুর সংখ্যায় ব্রাজিলের পর তৃতীয় স্থানে আছে ভারত। এ দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ জন শনাক্ত রোগী নিয়ে আক্রান্তের তালিকায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে আছে।

সোমবার ভারতে ৯০ হাজার ৮০২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এটি মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের নতুন রেকর্ড। এর মধ্যদিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দুই আমেরিকা মহাদেশের পর মহামারীর কেন্দ্রটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারতে অবস্থান করছে। প্রথমে কঠোর লকডাউন জারি করায় করোনাভাইরাসের বিস্তার ধীর গতিতে ছড়ালেও ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

লকডাউন তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় বুধবার দেশটিতে বারগুলোও ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে কোভিড-১৯ এ অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে ভারতে দৈনিক মৃত্যু বেশি হচ্ছে, গড়ে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি রোগী মারা যাচ্ছে।

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি দুই আমেরিকায় ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল ছাড়াও ওই অঞ্চলের মেক্সিকো, পেরু, কলম্বিয়া, চিলি ও ইকুয়েডরও মৃত্যুর তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।

গত দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এ দৈনিক গড়ে ৫ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি লোকের মৃত্যু হচ্ছে।

মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮ লাখ থেকে ৯ লাখে পৌঁছতে ১৮ দিন লেগেছে। এর আগে মোট মৃত্যু ৭ লাখ থেকে ৮ লাখে পৌঁছতে ১৭ দিন লেগেছিল। সেই হিসেবে মৃত্যুর গড় হার প্রায় স্থিতিশীল আছে।

কোভিড-১৯ জনিত প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি রেকর্ড হয়েছিল ১০ জুন চীনের উহানে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এই শহরটিতেই প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য