জিনসের যে দাম বাহে, ২শ টাহার বাজার কইল্লে ব্যাগের তলায় ঢাকে না। একপাশে করোনা ফির অন্যপাশে বন্যা। ইয়াতে কাম-কাজও নাই। বসি বসি দিন কাডাই। খরচ করি খামো সে টাহায় ঘরত নাই। এভাবেই বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সাপখাওয়া বাজারে সবজি কিনতে আসা দিনমজুর রিয়াজুল ইসলাম।

বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে লাগামহীন হয়ে পড়েছে সবজির মূল্য। এতে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের। বিভিন্ন এলাকা ও দূর-দূরান্ত থেকে নিত্যপণ্য আসলেও কোনোকিছুতেই কমছে না দাম। যেনো হুহু করে বেড়েই চলছে। একদিকে করোনা অন্যদিকে দফায় দফায় বন্যার তান্ডবে নষ্ট হয়েছে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত। ফলে সবজির দাম একেবারেই নাগালের বাইরে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনিতেই করোনার ছোবলে অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো। কাজ না থাকায় ইনকামও নেই তাদের। এমন পরিস্থিতিতে চরা মূল্যে পণ্য কিনতে হিমসীম খাচ্ছে তারা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাচামরিচ ২০০ থেকে ২৫০টাকা, পিঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৪০টাকা, ছোট করলা ১২০টাকা, বড় করলা ৭০টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, ধনে পাতা ২০০টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, মুলা এবং লাল শাক ৫০ থেকে ৬০টাকা, কলমির শাক ৩০থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ১০০ থেকে ১৫০টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে চালের দামও বেড়েছে প্রকার ভেদে কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা।

নাগেশ্বরী কলেজ মোড় বাজারে আসা রিকশাচালক ছমির আলী জানায়, সারাদিন কাজ করে ২০০ টাকা আয় করেছেন তিনি। তা দিয়েই ১ কেজি আলু ৪০ টাকা, ২ কেজি চাল ১০০ টাকা, ২৫০ গ্রাম তেল ২৫ টাকা আর, পাট শাক কিনেছেন ২৫ টাকার। এতেই তার টাকা প্রায় শেষ। পরিবারে ৫ সদস্যের সংসারে তার এ বাজার খরচ যাবে দুই বেলা। তাতে আবার তার এনজিওর কিস্তি আছে। একদিকে বাজার খরচ অন্যদিকে কিস্তির চিন্তায় দিশাহারা তিনি। বেরুবাড়ী বাজারে আসা এক ক্রেতা জানায়, ওষুধ কোম্পানিতে চাকুরি করেন তিনি। তার দুই মেয়ে। পরিবারসহ বাসা ভাড়ায় থাকেন। বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারের চরা মূল্যে পকেটের টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময় থেকে ঠিক মতো গ্রামের বাড়িতে বাবা মাকে টাকা পাঠাতে পারছেন না তিনি।

নাগেশ্বরী কলেজ মোড়ের সবজি বিক্রেতা আশরাফুল আলম, মাইদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদফা বন্যায় অধিকাংশ সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার বাইরে থেকে অধিক মূল্যে সবজি আনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও হচ্ছে বেশি। ফলে বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিশিষ্টজনরা বলছেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে সবজি বাজারে। তাছাড়া বাজারগুলোতে কোন মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ইচ্ছেমতো দাম হাকাচ্ছে বিক্রেতারা। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সবজি কিনে খাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন এবারের বন্যায়, ৪৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুম বলেন, দফায় দফায় বন্যা এবং অতি বৃষ্টির কারণে অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে অধিকাংশ শাক-সবজি বাইরে থেকে এনে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। যে কারণে বাজার মূল্যটা বেশি রয়েছে। আর যদি কোনো আরতদার বা ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ রেখে চরা দামে বিক্রি করে, এরকম খবর পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য