আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ‘পেটের দায়ে মানুষ কত কী করে। ’ একসময় এমন কথা জীবনসংগ্রামের প্রজ্ঞা ছিল। এখন পেটের দোহাই দিয়ে কত রকম বাজে পেশায় নিয়োজিত মানুষ। পাড়ার চায়ের দোকানে হরহামেশা বয়োজ্যেষ্ঠদের আফসোস করতে শোনা যায় ‘বড় বড় কথা ছাড়? এই দুনিয়ায় আর ভালো মানুষ নাই। সব কিছুতে ভেজাল। ’ আবার এমনও শোনা যায় ‘ভালো মানুষ আছে বলেই দুনিয়া এখনো টিকে আছে। ’ ঠিক তাই; ছয়ফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম। মানুষকে ভেজাল খাওয়াবেন না বলে ২০ বছর ধরে টানছেন তেলের ঘানি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছয়ফুল ইসলাম (৪৪) ২০ বছর ধরে ঘানি টানছেন। এ কাজে তাঁর সঙ্গী স্ত্রী মোর্শেদা বেগম। সরিষার তেল বিক্রি করে জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি। বাড়িতে তারা নিজেরাই ঘাড়ে জোয়াল তুলে ঘানি টানে।

যদিও প্রাকৃতিক এ পদ্ধতি এখন অনেকটাই উঠে গেছে। আগে মূলত দুটি গরু দিয়ে ঘানি টানানো হতো। কিন্তু এই পরিবারটি ব্যতিক্রম। গরু কেনার সামর্থ্য দম্পতির নেই। এই দম্পতি প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘানি টানেন। এতে যে পরিমাণ তেল ও খৈল হয়, তা বিক্রি করে আয় হয় ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এতে ৫ জনের পরিবার চলে না। মোরশেদ, শারমিন ও ইমরান তিন ছেলে-মেয়েই লেখাপড়া করছে। ঘানি টানার পর বাকি সময় দোকানে বসেন ছয়ফুল ইসলাম। গ্রামেই ছোট্ট একটি মুদির দোকান দিয়েছেন তিনি।

বুধবার দুপুরে তেলি এই পরিবারের বসতবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তেলের ঘানি। স্ত্রীর সহযোগিতায় সেটি টানছেন ছয়ফুল ইসলাম।

ছয়ফুল ইসলাম জানান, পৈর্তৃকভাবে পাওয়া তিন শতক জমির ওপর টিনের চালার এই বাড়ি ছাড়া তাঁর কিছু নেই। তাঁর করুণ অবস্থা দেখে কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একটি গরু কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর রোগে মারা যায় গরুটি।বংশপরম্পরায় এ পেশায় জড়িত ছয়ফুলরা, যা স্থানীয়ভাবে তেলি নামে পরিচিত। তাঁদের নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে তেলিপাড়া।

তিনি আরও জানান, তাঁরা ৯ ভাইয়ের সবাই তেলি ছিলেন। দুই ভাই মারা গেছেন। বাকিরা পেশা পরিবর্তন করেছেন। একমাত্র তিনিই পারিবারিক পেশা আঁকড়ে আছেন।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য