সংবাদ সম্মেলনঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘সেলফ হেলপ এন্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রাম (শার্প)’র বিরুদ্ধে জোর পূর্বক চাকুরীচ্যুত করা, সার্টিফিকেট ও ব্লাংক চেক আটকিয়ে রেখে এবং প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো মিথ্যা মামলায় হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে শহরের হাতিখানা শহীদ স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন অভিযোগ তুলেছেন সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তা এস এম সাদিকুর রহমান।

তিনি জানান, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার পদে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে কোন রকম নোটিশ ছাড়াই আমাকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে রেস্ট করতে বলেন সংস্থার নির্বাহী প্রধান মাহবুব-উল-আলম। কিছুদিন ছুটি কাটানোর পর অফিসে গেলে চাকুরী করার প্রয়োজন নেই বলে অব্যাহতির আবেদন করতে বলা হয়। কেন কি কারনে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে সে বিষয়ে বার বার জানতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ লিখিত বা মৌখিক কিছুই জানায়নি। এমতাবস্থায় ২ ফেব্রুয়ারী আমি লিখিত অব্যাহতি পত্র দিয়ে আমার পাওনাদি পরিশোধ ও শিক্ষাগত মূল সনদ ও জামানত হিসেবে আমার ও আমার জামিনদারের ব্যক্তিগত স্বাক্ষরিত ফাঁকা ব্যাংক চেক ফেরত প্রদানের আবেদন করি।

কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত আমার পাওনাদি পূর্নাঙ্গ নিষ্পত্তি করে নাই। এমনকি আমার ব্যাংক চেক ও সার্টিফিকেটও প্রদান করে নাই। ফলে আমি অন্যত্র চাকুরীতে যোগদান করতে পারছিনা। একারনে চাকুরীচ্যুতির পর হতে আজাবধি চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে অতিকষ্টে স্ত্রী সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করছি। করোনাকালীন সময়ে আমার পাওনাদি পরিশোধের জন্য অসংখ্যবার যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা তো দূরের কথা উল্টো নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে অফিসে রক্ষিত আমার চেক দিয়ে মামলা করার হুমকি দেয় পরিচালক এনামুল হক, প্রধান হিসাব রক্ষক দুলাল মহন্ত ও ক্রেডিট কো-অর্ডিনেটর ফিরোজ আহম্মেদ।

এদিকে গত একমাস যাবত আমি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে গুরুতরভাবে অসুস্থ। শার্প কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা কেউ রিসিভ না করায় আমার স্ত্রী সানজিদা বেগম কে অফিসে যেতে বলি। গত ১৬ আগস্ট আমার স্ত্রী শার্প অফিসে গেলে সংস্থার নির্বাহী প্রধান মাহবুব-উল-আলম তার সাথে অশোভন আচরণ করেন। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ তার প্রতি মারমুখী হয়ে উঠে। যা মুঠোফোনে রেকর্ড রয়েছে। পরে আমার স্ত্রী প্রশাসন কে জানানোর কথা বললে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে ভুল স্বীকার করে এবং আগামী ২৩ আগস্ট সকল পাওনাদি নিষ্পত্তি করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধান নির্বাহী। যা আজাবধি করেন নাই। বরং গত ২ সেপ্টেম্বর বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীরেই প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি তারা নিজেদের মত করে আমার বিরুদ্ধে কিছু অসড্য তথ্য মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার পাওনাদি থেকে ৪৪ হাজার টাকা কর্তন করে চেক প্রস্তুত করেছেন আমাকে দেয়ার জন্য।

অথচ আনিত অভিযোগ বিষয়ে আমাকে ইতোপূর্বে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানানো হয়নি। এমনকি আমি অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জোড়ালো আপত্তি করে অভিযোগের পূর্নাঙ্গ তথ্য প্রমান উপস্থাপনের দাবী তুললে তারা কোন প্রমান দেখাতে পারেনি।পরবর্তীতে প্রধান নির্বাহী মাহবুব-উল-আলম এর যোগাযোগ করলে তিনি ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে তাঁর সাথে অফিসে দেখা করতে বলেন। সে অনুযায়ী ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে অফিস ভবনে গেলে নিচে প্রবেশ পথের কেচিগেটে তড়িঘড়ি তালা লাগিয়ে গার্ড উপরে চলে যায় এবং অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর জানানো হয় নির্বাহী প্রধান মাহবুব-উল-আলম দেখা করবেন না। ফলে প্রতিবারের মতো এদিনও ব্যর্থ মনে ফিরে আসি।

ফেরার পথে জানতে পারি শার্প সংস্থার স্থানীয় একজন কর্মকর্তা ক্রেডিট কো-অর্ডিনেটর ফিরোজ আহম্মেদ আমার নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি থানায় উপস্থিত হয়ে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানালে থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগকারী ফিরোজ আহম্মেদ ও নির্বাহী প্রধান মাহবুব-উল-আলম এর সাথে যোগাযোগ করে জানান রাত ৮টায় থানায় উভয়কেই নিয়ে বসবেন। কিন্তু যথাসময়ে থানায় উপস্থিত হয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান ফিরোজ আহম্মেদ ও মাহবুব-উল-আলম বসবেন না।

এভাবেই তারা আমাকে হয়রানী করে চলেছেন। আমাকে বিনা কারনে চাকরিচ্যুত করে ন্যায্য পাওনা বাবদ ১ লাখ ৬২ টাকার কিছু কমবেশি প্রদানে গড়িমসি করছেন। আমার সার্টিফিকেট আটকিয়ে রেখে অন্যত্র চাকুরী করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আমাকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে ফেলেছেন। এখন আবার মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।

এস এম সাদিকুর রহমান বলেন, সংস্থাটি ইতোপূর্বেও এভাবে অকারনেই কর্মী ছাটাই, প্রাপ্য প্রদানে হয়রানী করাসহ নানা অনিয়ম করে চলেছে। তাছাড়া প্রকল্পের নামে দাতা গোষ্ঠী ও সংস্থার কাছ থেকে বরাদ্দ এনে আত্মসাৎ করছে। এ ব্যাপারে একটু খোঁজ খবর করলেই প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। যাতে বুঝতে পারবেন সমাজ সেবার নামে তারা কিভাবে নিজেদের আখের গুছিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন।

তিনি এ ব্যাপারসহ তার সাথে ঘটে যাওয়া এধরণের মানসিক নির্যাতন ও অনিয়মের বিচার পেতে সাংবাদিকসহ সচেতন মহল ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলপন যে, আপনারা বিষয়টি তদন্ত তথা যাচাই বাছাই করে দেখেন মূলতঃ কারা দোষী।
উল্লেখ্য, এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কিস্তি আদায়ে হতদরিদ্র পরিবারের লোকজনের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ছাগল লুট করে আনার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য