মোঃ ইউসুফ আলী আটোয়ারী(পঞ্চগড়) থেকেঃ দেশের সবৃ উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে দিনদিন সবজি ও পুষ্টি বাগানের দিকে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকরা তাদের নিজস্ব বাড়ীর পাশে পতিত জমিতে চাষকৃত সবজি ও পুষ্টি বাগান থেকে কীটনাশক মুক্ত শাক সবজি উৎপাদন করে নিজের ও পরিবারেরর পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে আয় বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত শাক সবজি বাজারজাত করছেন। এতে তারা অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। পঞ্চগড় জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্প্তর হতে পাওয়া তথ্যমতে “প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলার পাঁচ উপজেলায় করোনাকালীন ও পরবর্তী সংকট মোকাবেলায় কৃষকের পুষ্টির চাহিদা মিটাতে মোট সবজি ও পুষ্টি বাগান করা হয়েছে ১৩৭৬টি। প্রতি ইউনিয়নে ৩২টি হিসেবে সদর, বোদা,দেবীগঞ্জ উপজেলায়-৩২০টি করে ও আটোয়ারী উপজেলায়-১৯২ টি এবং তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২২৪টি সবজি ও পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ১১ প্রকারের শাক -সবজির বীজ,সাইনবোর্ড ও আর্থিক সুবিধা প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়। এই সবজি বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে জেলার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আটোয়ারী উপজেলার ছোটদাপ গ্রামের কৃষক মনছুর আলী জানান, আমার শাক সবজির বাগানে কোন প্রকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করিনি,শুধু জৈবসার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেছি,এতে খরচ কম লাভ বেশি হয়েছে। আমার নিজের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের পরিবারে কীটনাশক মুক্ত শাক সবজি বিলিয়েছি।প্রতিবেশীরাও আমার দেখে শাকসবজি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন,আমার বাগানে পুঁইশাক,পালংশাক,লাউ,বরবটি,লালশাক,ডাটাশাকসহ ১১প্রকার শাকসবজি আছে। এই বাগানের উৎপাদিত শাকসবজি থেকে বাড়তি আয় করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চলছে। করোনার এই সময় বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ করে পরিবারের সবজির চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে বলে কৃষক হারুন,আখিমউদ্দিন,আবুল হোসেন নামে কয়েকজন বাগান মালিক জানিয়েছেন। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,করোনা কালে এসব বাগান পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উৎস হবে। আটোয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মুজিব শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু কৃষি উৎসব উপলক্ষে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের নিয়ে মানুষের পুষ্টির চাহিদা মিটাতে কীটনাশক মুক্ত ও রাসায়নিক সার মুক্ত শাক সবজির বাগান তৈরী করা হয়েছে। উৎপাদিত শাক সবজির বাগান দেখে অন্যান্য কৃষকরাও কীটনাশক মুক্ত সবজি বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য