গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্ত্রী রুমি বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী জামিরুল ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুক্তিনগর ইউনিয়নের খামার ধনরুয়া গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল হোসেন।

নিহত জামিরুল ইসলাম (৩৬) খামার ধনরুয়া গ্রামের নজিম উদ্দিনের ছেলে এবং রুমি বেগম (২৬) সাঘাটার ইটাকুড়ি গ্রামের ওমর হোসেনের মেয়ে। পেশায় জামিরুল দিনমজুর। গত ১৫ বছর আগে জামিরুলের সঙ্গে বিয়ে হয় রুমির। রিমন নামে ১০ বছরের ও রাফি নামে তিন বছরের তাদের দুই ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জামিরুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে রবিবার রাতে কোনও একসময় জামিরুল স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর জামিরুল গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সকালে ঘরে থাকা ছেলে রিমন ও ওয়াফির কান্নাকাটি শুনে পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা খুলে রুমির লাশ বিছানার নিচে এবং জামিরুলের লাশ ঝুলতে দেখে। পরে ঘটনাটি তারা পুলিশকে অবগত করে।

এদিকে, রুমির স্বজনদের দাবি, জামিরুল দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী রুমিকে নানা কারণে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি পরিকল্পিতভাবে রুমিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বিছানার নিচে ফেলে রেখে নিজেও আত্মহত্যা করেন।

ওসি জানান, খবর পেয়ে স্বামী ও স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে স্ত্রীকে হত্যা, নাকি দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য