মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যের ওল্ড বেইলির আদালতে হাজির হচ্ছেন উইকিলিকস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত মামলায় প্রথমবারের মতো সশরীরে আদালতে হাজিরা দেবেন এই লড়াকু সাংবাদিক। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা, এই মামলার মধ্য দিয়ে সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। এদিকে অ্যাসাঞ্জের শুনানিকে সামনে রেখে তার সমর্থকেরা আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওইদিনই তাকে জামিন শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ব্রিটিশ আদালত। তখন থেকে বেলমার্শ নামক কুখ্যাত কারাগারে সাজা ভোগ করছেন অ্যাসাঞ্জ। এরইমধ্যে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কম্পিউটার হ্যাক ও গুপ্তচর আইন লঙ্ঘনসহ ১৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। ব্রিটিশ পুলিশও অ্যাসাঞ্জকে হেফাজতে নিয়েই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা সে সংক্রান্ত একটি মামলার বিচার চলছে ব্রিটিশ আদালতে। করোনাভাইরাসের কারণে এই মামলার শুনানি এতদিন স্থগিত ছিল। সোমবার তা আবার শুরু হচ্ছে। আগামী চার সপ্তাহ ধরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ বিশ্লেষণের মতো যথেষ্ট সময় তাদেরকে দেওয়া হয়নি। এ বিচার কাজকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে তারা। আইনজীবীদের অভিযোগ, উইকিলিকস-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আলামত প্রকাশ্যে আনায় অ্যাসাঞ্জকে শাস্তি পেতে হচ্ছে।

অ্যাসাঞ্জের সমর্থকরা আদালতের সামনে বিক্ষোভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুনানি চলার সময় আদালতে উপস্থিত থাকবেন তার জীবনসঙ্গী স্টেলা মরিস। তিনি দাবি করেন, কারাগারে অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার ওজন অনেক কমে গেছে। তার আশঙ্কা, অ্যাসাঞ্জকে না দেখেই বড় হতে হবে সন্তানদেরকে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে সোমবার আদালতের শুনানিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে। মিডিয়া ও অন্য পর্যবেক্ষকদের জন্য অল্প কয়েকটি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আলাদা একটি কক্ষ থেকে তারা শুনানি পর্যবেক্ষণ করবেন। জেলা বিচারপতি ভানেসা বারাইতসের শুনানি করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড জুরি অ্যাসাঞ্জকে যে ১৮টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে, তার মধ্যে ১৭টি অভিযোগই মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি আইনের আওতায় পড়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ১৭৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাশালীদের মুখোশ উন্মোচনকারী এই ব্যক্তির।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য