রোগ বা তার প্রতিষেধক, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা, করোনা-মহামারি নিয়ে রাজনীতি চলছেই! যার ফল হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে জার্মানি। বিক্ষোভ-মিছিল, প্রতিবাদে উত্তপ্ত দেশটি। বিক্ষুব্ধদের দাবি, ‘ভ্যাকসিন চাই না, বন্দি জীবন থেকে মুক্তি চাই!’

হাজারও মানুষের জমায়েতকে লক্ষ করে এক তরুণী বলে যাচ্ছেন, ‘ট্রাম্প এখন বার্লিনে।’ সত্যি নয়, প্রতীকী, সম্ভবত জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলকে উদ্দেশ্য করে বলা। শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেখিয়ে দিই, আমরা বিশ্বে শান্তি দেখতে চাই। ওদের এ সব কাজকর্ম দেখে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’

শান্তি পূর্ণ এ আন্দোলন অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। হাতাহাতি থেকে শুরু করে ব্যারিকেড ভাঙা, সবই হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ওই নারীর নাম টামারা কে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) টামারার নেতৃত্বেই এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের সাক্ষী হয়েছিল বার্লিন। গত এক-দু’মাসে এমন আরও বেশি কিছু বিক্ষোভ দেখেছে জার্মানি।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘ভ্যাকসিন চাই না, করোনা নিয়ে বাড়াবাড়ি চাই না, লক-ডাউন মানি না।’ রাস্তায় গিজগিজ করছে মাথা, মুখে মাস্কের বালাই নেই, স্লোগান-পোস্টারে একাকার অবস্থা। কোথাও নেই সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই, বরং চিৎকার-চেঁচামেচিতে রয়েছে ‘ড্রপলেটস’ ছড়ানোর আতঙ্ক!

গোটা বিশ্বে দুই কোটি ৬৭ হাজার সংক্রমিত। আট লাখ ৮১ হাজারের বেশি মৃত্যু। শুধু আমেরিকাতেই মারা গেছে এক লাখ ৯২ হাজার মানুষ। বার্লিনের এই গণ-জমায়েত শুধু চায় আগের সেই স্বাধীন জীবন, ঘরবন্দি নয়। গত কয়েক মাসে এই দাবিতে একাধিক বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে জার্মানির একাধিক শহরে। তবে এর আড়ালেও রাজনীতি দেখছেন অনেকে।

জার্মানে এ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন আড়াই লাখ মানুষ, মারা গেছেন ৯৪০১ জন। করোনার বিরুদ্ধে তাদের সাফল্য ভূয়সী প্রশংসাও কুড়িয়েছে বিশ্ব সংসারে। কিন্তু এতো সব করেও না দাম দিতে হয় জার্মানিকে, এমনটাই ভয় পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।

জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোর্স্টেন কোয়ান্ট আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ কোনো মহান ব্যাপার নয়। রোগ যদি আটকে দেওয়া যায়, তা হলে লোকে বিপদটাই টের পায় না।’ বার্লিনের লাগাতার করোনা-বিরোধী মিছিল দক্ষিণ-পন্থিদের ষড়যন্ত্র বলেও মনে করেন অনেকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য