দৈনিক শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে না আসায় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে কঠোর লকডাউনের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দেশটির ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লকডাউন ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, তবে বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল হবে।

পরিস্থিতির উন্নতি হলে অক্টোবর থেকে বিধিনিষেধ আরও শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ এর কেন্দ্র বলা হচ্ছে ভিক্টোরিয়া রাজ্যকে। নতুন করোনাভাইরাসে দেশটিতে এখন পর্যন্ত যে ৭৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তার ৯০ শতাংশই ভিক্টোরিয়ায় হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আড়াই কোটি জনসংখ্যার অস্ট্রেলিয়ায় রোববার সকাল পর্যন্ত ২৬ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

রোগীর পরিমাণ বাড়তে থাকায় ৯ জুলাই থেকে বৃহত্তর মেলবোর্ন এলাকায় দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হয়। পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দূরে ভ্রমণেরও ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়।

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেলবোর্নের লকডাউন ১৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল; কর্তৃপক্ষ এখন তা আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেছে।

এ পর্যায়ে শহরটির কারফিউ রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বলবৎ হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। একা থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে ‘বাবল’ তৈরি করে একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং এ ধরনের দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে এখনকার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি মেলবোর্নে গড় দৈনিক শনাক্ত রোগী ৩০ থেকে ৫০ এর মধ্যে নেমে আসে, তাহলে লকডাউন চতুর্থ মাত্রা থেকে তৃতীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা হবে। এ পর্বে দুটি বাড়ির সর্বোচ্চ ৫জনকে একত্রিত হতে দেওয়া হবে; এক পর্যায়ে কিছু কিছু ক্লাসের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ও বিশেষায়িত স্কুলগুলো খুলে দেওয়া হবে।

এভাবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেখা হবে। ততদিন গড় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা যদি ৫ এর নিচে নেমে আসে, তাহলে কারফিউ তুলে নেওয়া হবে।

বিবিসি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াজুড়ে হাজারও মানুষের লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভের একদিন পর মেলবোর্নে চতুর্থ মাত্রার কঠোর লকডাউনের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা এলো। বিধিনিষেধ অমান্য করা মেলবোর্নের বিক্ষোভেও প্রায় তিনশ’ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

এ ধরনের প্রতিবাদকে ‘স্বার্থপরতা ও বেআইনি’ অ্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অ্যান্ড্রুস বলেছেন, যে চর্চা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং তার ধারাবাহিকতায় আরও বিধিনিষেধ আরোপের পথ প্রস্তুত করে, তা অন্য কারও উপকারে আসতে পারে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য