দিনাজপুর সংবাদাতাঃ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌদুরী এমপি বলেন, আজ জমির দলিল হস্তান্তর এবং ভবন উদ্বোধন করা হলো। এটা আমাদের বিরলের আপামর জনসাধারণের জন্য এবং সাংবাদিকদের জন্য একটি মাইলফলক হিসাবে আজকের এই দিনটি থাকবে। আজকের এই দিনে বিরল প্রেস ক্লাব নবযাত্রা শুরু করলো। একটি স্থায়ী ঠিকানা, প্রত্যেকটি নাগরিক বলেন, ব্যক্তি বলেন, প্রতিষ্ঠান বলেন, এটা খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে যখনই আপনারা স্থান্তারিত হয়েছেন, তখনই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কাজের গতি বেগ পেয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেক সময় মনমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন যেহেতু একটি স্থায়ী জায়গায় আমরা চলে আসলাম, সেহেতু ধীরে ধীরে এ সংগঠনের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এখন সাংবাদিকতার মান বৃদ্ধি পাবে। জেলার মধ্যে বিরল প্রেস ক্লাব অগ্রগামী ভূমিকায় আছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে কারো মান মর্যাদা সহযেই যেন ক্ষুন্ন না হয়। সঠিক বিষয়টি যেন আপনাদের মাধ্যমে উঠে আসে। প্রকৃত তথ্য আপামর জনগণ যেন সহজেই আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নেত্রী এমন একজন নেত্রী, তাঁর সাথে দীর্ঘদিন আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছি তিনি কখনই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান না। অনেক সময় গণমাধ্যম সমালোচনা করলেও তিনি সেই সমালোচনাটাকে গ্রহণ করেন। সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় তিনি সবসময় উৎসাহ প্রদান করেন। আমরা চাই বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং গত ১০ বছরে আমরা দেখেছি গণমাধ্যম কিভাবে উন্মুক্তভাবে কাজ করেছে। উন্মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার মানে এই নয় যে আমরা নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও সঠিক ইতিহাসকে অপব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবো। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে আমি লাগামহীন কথাবার্তা বা লেখালেখি উপস্থাপন করবো। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, আমি আরেকজন সাধারণ মানুষকে ব্যক্তি চরিতার্থ করবো। স্বাধীনতা হচ্ছে এটাই, যেটা মানুষকে অর্থবহ করে তুলে, মানুষকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলে। আমি মনে করি গণমাধ্যমের এটাই পাথেয় হওয়া উচিত এবং সেই পথেই চলা উচিৎ।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নেটওয়ার্ক অনেক বড় হয়েছে। বিশেষ করে এই সময়ের মধ্যে যত গণমাধ্যমের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, হাজার হাজার অনলাইন সংবাদমাধ্যম চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে নীতিমালার আওতায় আনতে নিবন্ধন শুরুর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এটা একটা মাইলফলক!

একসময় বিটিভিকে সাহেব, বিবি, গোলামের বাক্স বলা হতো। এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসতো, সেই সরকার সে সরকার প্রধানকে দেখানো হতো, তাঁর গোলামদেরকে দেখানো হতো। তাঁর মন্ত্রীদেরকে দেখানো হতো, এর বাইরে জনগণের কথা দেখানো হতো না। ৭৫ পরবর্তী জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ও আমরা একই চিত্র দেখেছি। বাংলাদেশকে সাহেব, বিবি, গোলামের বাক্সে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা’র সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভির অনুমোদন দিয়েছিলেন। গোটা পৃথিবীর পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের আপামর জনগণের কথা তুলে ধরা হতো। এরপরই চ্যানেল আইসহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেয়া হয়। ২০০১ সালের পরে দুঃখজনক হলেও সত্য এই একুশে টিভি চ্যানেলকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একুশে টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন, তাঁকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিলেন খালেদা জিয়ারা। পাশাপাশি কিছু টেলিভিশন চ্যানেল যেগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে এবং গণমানুষের বিপরীতে কাজ করতেছিল, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দিতো, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল, সেইসব চ্যানেলকে দিয়ে অপব্যাখ্যা প্রচার করছিল।

বর্তমানে গণমাধ্যম দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কোন বিষয় নিয়ে কেউ যদি বিকৃতির চেষ্টা করে, সেখানে গণমাধ্যম কলম ধরছে। নতুন প্রজন্মের জন্য সুখবর, গণমাধ্যম এখন আর বিকৃত ইতিহাস লেখে না, এর কারণ হলো দায়িত্ব। এর আগে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত করতে সবসময়ই কাজ করে চলেছে বলেই গণমাধ্যম এখন দায়িত্বশীল হয়েছে।
শনিবার দুপুরে বিরল প্রেস ক্লাবের ৫ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট ১ম তলা ভবনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নৌপরিহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

প্রেস ক্লাব সভাপতি এম এ কুদ্দুস সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সহকারী কমিশনার ভূমি জাবের মোঃ সোয়াইব, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ সবুজার সিদ্দিক সাগর, প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ত রায়, আজীবন সদস্য ও রূপালী বাংলা জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব এম আবদুল লতিফ, সহ-সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন প্রমূখ। অন্যান্যের মধ্যে কর্মকর্তা ইনচার্জ শেখ নাসিম হাবি, জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু, বীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবেদ আলী, সেতাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, কাহারোল প্রেস ক্লাবের সুকুমার রায়সহ জেলা ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি এর আগে ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে প্রেস ক্লাব ভবনের শুভ উদ্বোধন, প্রেস ক্লাবের জমির দলিল হস্তান্তর এবং শেষে বৃক্ষরোপন করেন। এ সময় প্রধান অতিথিকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ। তাছাড়াও প্রধান অতিথিকে বিরল প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা সম্বলিত পরিচয়পত্র এবং প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য হিসাবে আলহাজ্ব মোঃ সবুজার সিদ্দিক সাগর ও আলহাজ্ব এম আবদুল লতিফকে আজীবন সদস্যের পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা হয় অনুষ্ঠানে।

এছাড়াও প্রধান অতিথি পুলহাট মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ানজি দিঘী দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের শুভ উদ্বোধন, উপজেলা পরষদ কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের শুভ উদ্বোধন, ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়ন তহসিল অফিসের ভিত্তি প্রস্তরের শুভ উদ্বোধন ও বালান্দোর উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের শুভ উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য