চীন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাসে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে দিল্লি।

রাশিয়ার মস্কোয় শুক্রবার দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠক শেষে শনিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত হয়েছে যে, তারা কেউই সীমান্ত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে বা সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন কোনো কিছু করবে না।”

‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ এর সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল উই ফ্যাং মস্কোতে গেছেন। সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার দিনের শেষভাবে এই দুই নেতা নিজেদের সীমান্তের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন।

২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে তাদের ওই বৈঠক চলে বলে পরে এক টুইটে জানান রাজনাথ।

হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলে লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে গত ১৫ জুন চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে মারামারিতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীনও তাদের সেনাদের হতাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে, যদিও তারা সংখ্যা প্রকাশ করেনি। কোন আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই ওই সংঘাতে এত সেনা হতাহত হয়।

ওই সংঘাতের পর উভয় দেশ লাইন অব কন্ট্রোল-এলএসি জুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। লাদাখ সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত বৃহস্পতিবার সেখানে যান ভারতের সেনাপ্রধান। এক মাসের ব্যবধানে এটি ছিল ভারতীয় সেনাপ্রধানের দ্বিতীয়বার লাদাখ সফর।

অনুপ্রবেশ পাল্টা অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে গত মে মাস থেকে লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ১৫ জুন যা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।

মে মাসের পর শুক্রবারই প্রথম দুই দেশের এত শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মুখোমুখি বৈঠক হলো।

ওই বৈঠক নিয়ে চীনের সরকার সমর্থিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে শনিবার বলা হয়, বৈঠকে উই ফ্যাং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথকে বলেছেন, ‘সীমান্তে বর্তমানে যে উত্তেজনা চলছে তার পুরো দায় দিল্লির’।

চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাসে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য