ও পাখি তোর যন্ত্রণা——– বাংলা ছবির গানের এ কথার মত রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আঊশ ধান আবাদ করে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর অনেক ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। ধানে পাক ধরেছে। চালও এসেছে।

এ অবস্থায় পাখির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে চাষীরা। ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখি খেয়ে যায় ধান। ক্ষতি করছে কৃষকের।

কৃষকরা পাখি তাড়াতে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের কৌশল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেঊবা পাখির অত্যাচারে ধান খেত জাল দিয়ে ধান ঢেকে দিয়েছে।

কেউবা ক্ষেতের মাঝে খড়ের মূর্তি তৈরী করেছে। কেউবা মাছা তৈরী করে টিন বাজিয়ে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। কেউবা রশি দিয়ে বাঁশে কিংবা টিনে বিকট শব্দ তৈরী করেছে।

উপজেলার পশ্চিম মাদ্রাইন গ্রামের সুমন মিয়া জানান, পাখির অত্যাচারে আর বাঁচি না। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসে। পাখির অত্যাচারে বাধ্য হয়ে জাল কিনে এনে ধান ঢেকে দিয়েছি। অনেকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছায় বসে টিন বাজাতে থাকে। তাছাড়া উপায় নেই।

একই গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, পাখির অত্যাচারে আগেই ধান কেটেছি। তিনি আরও বলেন খড়ের চাহিদা থাকায় ক্ষেতেই খড় বিক্রি করে দিয়েছেন। পশ্চিম মাদ্রাইন বকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, তার ব্লকেই প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আঊশ ধানের চাষ করা হয়েছে। তবে পাখির অত্যাচারের কথা তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ বছর প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আঊশ ধানের চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, পাকির হাত থেকে রক্ষার জন্য কাকতাড়-য়াসহ অন্য ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য