দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আসছে আগামী ২২ অক্টোবর থেকে এই পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সেই হিসেবে দু’মাসের কম সময় রয়েছে। পালরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের শিমূল তলা কালীমন্দির,নতুন পাড়া, সুজালপুর হরিবাসর পাড়া,সনাতন পাড়া,১নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া, কেন্দ্রীয় মন্দির,কুমারপাড়া এলাকায় পুরোদমে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।

প্রতিমা তৈরি কারিগররা বলছেন, এবছর প্রতিমা তৈরির তেমন অর্ডার নেই। কেউ কেউ দলবদ্ধভাবে কাজ সম্পন্ন করছেন। ২ সেপ্টেম্বর -২০২০ বুধবার সকালে শিমূল তলা কালীমন্দিরসহ কয়েকটি মন্দিরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঠ-বাঁশ ও রশি দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে খড় (ধানের আউড়) দিয়ে সাজিয়ে কাদামাটি লাগানো হচ্ছে। কারও কারও প্রতিমা রূপে এসেছে। কারওটার আবার শুধুই কাঠামো দেখা যাচ্ছে। বাকি পড়ে আছে পোশাক ও গয়না পরানো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবছর মহামারি (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাসে এবারের দুর্গাৎসবের চির পরিচিত আমেজ থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় এই দুর্গাউৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ। উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের কুমুরপাড়া গ্রামের প্রতিমা কারিগর বলরাম পালের ছেলে সাগর চন্দ্র পাল বলেন,হাতে এখনও প্রায় দুই মাস আছে।

ভাদ্র মাস শুরু হয়েছে, অথচ এখন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। হঠাৎ আকাশে মেঘ করে বৃষ্টি আসলে বাইরে প্রতিমা ঘরে তুলতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটো যাচ্ছে। সাগর আরো বলেন, ‘ প্রায় আরো দেড় মাস আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছি। এবছর এখনও পর্যন্ত ২ টি প্রতিমা তৈরি করেছি। তবে অর্ডার পেয়েছি আরো দুটির।

তবে কেউ দাম বলতে চায় না। সবাই বলে করোনার কারণে টাকা নেই হাতে। এবছর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার উপরে দাম বলে না। কি আর করার বসে না থেকে টুকটাক করে দুই -একটা কাজ করছি। বীরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মহেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল দেব শর্মা বলেন, গত বছরের তুলনা করোনার কারণে এবছর শারদীয় উৎসব হবে ভিন্ন।

এবছর ১৫৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে আমরা সকল মন্দির কমিটির সভাপতি -সম্পাদকদের সাথে আলোচনা করেছি এবার পূজায় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। উপজেলা হিন্দু- বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংর রাহা বাপ্পী বলেন, গতবছরের তুলনায় এবছর একটি পূজামণ্ডপ বেড়ে ১৫৯টি মন্দিরে পূজা হবে। সবকয়টির তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য