ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি শেরিফের দুই ডেপুটির গুলিতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

‘গাড়ি আইন’ ভঙ্গের দায়ে ওই বাইসাইকেল চালককে থামিয়ে ছিল ডেপুটিরা, কিন্তু ওই চালক এক কর্মকর্তাকে ঘুষি মারে আর এ সময় তার কাছে থাকা একটি পিস্তল মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর শেরিফের দুই ডেপুটি তাকে লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি করে।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নিহত ব্যক্তিকে ডিজন কিজি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি শেরিফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট ব্রানডন ডিন।

ডিন জানান, কিজি একজন কর্মকর্তার মুখে ঘুষি মারার সময় তার হাতে ধরে রাখা কাপড়ের বান্ডিল থেকে একটি আধাস্বয়ংক্রিয় পিস্তল পড়ে যায়, সে ওই ‘আগ্নেয়াস্ত্র তোলার উদ্যোগ নিলে’ দুই কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন।

“ওই আগ্নেয়াস্ত্র তার হাতে ছিল না সে সেটা তোলার চেষ্টা করেছিল, এটি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না আমি কারণ ওই ডেপুটিদের সাক্ষাৎকার এখনও নেওয়া হয়নি,” বলেছেন তিনি।

এ ঘটনার পরপরই লস অ্যাঞ্জেলস শহরের দক্ষিণ প্রান্তের ওয়েস্টমন্ট এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের হাতে আফ্রিকান-আমেরিকান নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান প্রতিবাদের আরেকটি কেন্দ্র হয়ে উঠছে ওয়েস্টমন্ট।

স্থানীয় আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিল। তারা ঘটনার স্বাধীন তদন্তের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

প্রখ্যাত নাগরিক অধিকার বিষয়ক আইনজীবী বেন ক্রাম্প, যিনি কিজি পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, এক টুইটে বলেছেন, “তারা বলেছে, তিনি কাপড় ও একটি পিস্তল ফেলে দৌঁড় দিয়েছিলেন। তিনি সেটি (পিস্তল) তুলেননি, কিন্তু পুলিশ তাকে পেছনে থেকে ২০ রাউন্ডেরও বেশি গুলি করেছে এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে ফেলে রেখেছে।”

রাস্তার অপর পাশে নিজের বাড়ি থেকে ঘটনাটি সরাসরি দেখেছেন বলে মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ডেজা রোকমোর (৩১) । তিনি জানিয়েছেন, কিজিকে কোনো ঘুষি মারতে দেখেননি তিনি, কোনো বন্দুকও দেখেননি এবং তার ভাষ্যমতে সে ‘হুমকিও ছিল না’।

গুলিবিদ্ধ কিজি মুখ থুবড়ে নিশ্চল হয়ে মাটিতে পড়ে থাকার পরও ডেপুটিরা গুলি করে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য