কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন। জেলার দুধকুমার, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। শতশত পরিবার তাদের ঘরবাড়িসহ আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে মসজিদ, মাদরাসা ও স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।

একদিকে বন্যা আরেকদিকে নদী ভাঙন। দুইয়ে মিলে বিপর্যস্ত জনজীবন। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নলেয়া, ইসলামপুর, পাইকেরছড়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে দুধকুমার নদীর ভাঙন।

এলাকাবাসী জানান, বিগত বছর থেকে এ এলাকা ভাঙনের কবলে থাকলেও এবার বন্যায় তা তীব্র রূপ নিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদীতে বিলীন হয়েছে প্রায় অর্ধশত বসতভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আবাদি জমিসহ অসংখ্য গাছপালা।

ভুক্তভোগী একজন বলেন, আমার জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। এখন আমি কোথায় যাব। অন্য এক বাসিন্দা বলেন, নদী ভাঙন যে রূপ ধারণ করছে। আমরা ঘড় বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছি না। গবাদি পশু নিয়ে এখন বিপদে পরেছি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বলেন, ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু ভূরুঙ্গামারী নয় জেলার প্রধান তিনটি নদ নদীর ৩২টি পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাময়িকভাবে ভাঙনরোধে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় আবারো ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা তাদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য