ছাব্বিশ বছর আগে অসীম সাহসিকতায় এক হাজার ২০০রও বেশি মানুষকে গণহত্যার হাত থেকে বাঁচানো পল রুসেসাবাগিনাকে সন্ত্রাসবাদ, অগ্নিসংযোগ ও খুনসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রুয়ান্ডার কর্তৃপক্ষ।

সোমবার দেশটির তদন্ত ব্যুরো এক বিবৃতিতে রুসেসাবাগিনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা গণহত্যার সময় হুতু জনগোষ্ঠীর সদস্য রুসেসাবাগিনা রাজধানী কাগিলের একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক ছিলেন; তিনি সেসময় সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা হাজারেরও বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

পরে এই ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ‘হোটেল রুয়ান্ডা’।

আড়াই দশক পুরনো রুয়ান্ডা গণহত্যায় তুতসি ও হুতু জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৬৬ বছর বয়সী রুসেসাবাগিনা রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা কাগামের হাত ধরে পূর্ব আফ্রিকার দেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক স্থিতিশীল সময় পার করলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার বিরুদ্ধে সমালোচকদের ‘নির্মমভাবে চুপ করিয়ে দেওয়ার’ ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে।

সোমবার টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে রুয়ান্ডার তদন্ত ব্যুরো রুসেসাবাগিনাকে রুয়ান্ডা মুভমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাটিক চেইঞ্জ এবং পার্টি ফর ডেমোক্র্যাসি ইন রুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন ‘সহিংস, সশস্ত্র, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠাতা, নেতা, পৃষ্ঠপোষক ও সদস্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রুয়ান্ডা মুভমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাটিক চেইঞ্জের একটি সামরিক শাখা রয়েছে, যেটি পুরো অঞ্চলজুড়েই সক্রিয়। এই সামরিক শাখাকে রুয়ান্ডার সরকার ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করে।

কাগামের সরকার গত কয়েক বছর ধরেই রুসেসাবাগিনার বিরুদ্ধে বাইরে থেকে রুয়ান্ডায় হামলা চালানো এ বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।

তদন্ত ব্যুরো রুসেসাবাগিনার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ‘রুয়ান্ডার ভূখণ্ডের ভেতর নিরস্ত্র, নিষ্পাপ বেসামরিক নাগরিকদের উপর’ হামলায় সহযোগিতারও অভিযোগ এনেছে।

‘হোটেল রুয়ান্ডা’ হিরোর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনোটির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

‘আন্তর্জাতিক সহায়তায়’ রুসেসাবাগিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানালেও কোন দেশ বা সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে এবং কবে, কখন, কোথায় থেকে তাকে আটক করা হয়েছে সে সম্বন্ধে কিছু বলেনি রুয়ান্ডার তদন্ত ব্যুরো।

শিকাগোভিত্তিক হোটেল রুয়ান্ডা রুসেসাবাগিনা ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র কিটি কার্থ জানান, বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল রুসেসবাগিনার। এরপর সোমবার রুয়ান্ডায় তাকে দেখা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন তা জানা যায়নি।

“আমাদের বিশ্বাস, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং অস্বাভাবিক উপায়ে রুয়ান্ডায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি রুয়ান্ডার মানবাধিকার লংঘন নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করতেন; অন্যদিকে রুয়ান্ডার সরকারও সমালোচকদের চুপ করিয়ে দিতে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবেই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আসছে,” বলেছেন কার্থ।

বেলজিয়ামের নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী রুসেসাবাগিনা কয়েক বছর আগে রুয়ান্ডা ছেড়েছিলেন। টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও ও ব্রাসেলসে তার বাড়ি আছে বলে ওই মুখপাত্র জানিয়েছেন।

রুসেসাবাগিনার গ্রেপ্তারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য