সৌদি আরবে রাজপরিবারের দুই সদস্যসহ বেশ কয়েকজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ।

রাজকীয় এক ডিক্রিতে তিনি প্রিন্স ফাহাদ বিন তুর্কিকে ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর কমান্ডারের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ফাহাদের ছেলে আব্দুলআজিজ বিন ফাহাদকেও ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই দুইজনসহ মোট ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগের তদন্ত হবে, বলা হয়েছে ডিক্রিতে।

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত কয়েক বছর ধরেই ‘সরকারের ভেতরকার দুর্নীতির’ বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছেন।

তার এ অভিযানের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করা এবং বিরোধীদের সরিয়ে দেওয়া, বলছেন সমালোচকরা।

‘ডি ফ্যাক্টো’ এ শাসক এরই মধ্যে সৌদি বাদশার ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুলআজিজ, সাবেক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফসহ রাজপরিবারের প্রভাবশালী তিন সদস্যকেও আটক করেছেন বলে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

২০১৭ সালে মোহাম্মদ রাজপরিবারের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক ডজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলে আটকে রেখেছিলেন।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে রাজি হওয়ার পর এদের বেশিরভাগকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বেশকিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশংসা কুড়ালেও ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাশুগজির হত্যাকাণ্ড এবং ইয়েমেনে হুতিবিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে মোহাম্মদকে আন্তর্জাতিক মহলের কড়া সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স নারীদের গাড়ি চালানো ও মাঠে বসে খেলা দেখাসহ বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের উপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিলেও তার আমলেই সৌদি আরবে নারী অধিকার কর্মীদের উপর তুলনামূলক বেশি নিপীড়ন হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য